কুলাউড়ায় টাকা ও তিন সন্তানসহ স্ত্রী উধাও
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় তিন সন্তান ও নগদ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে স্ত্রী উধাও হওয়ার পর উল্টো স্বামী ও শশুরের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। স্ত্রীর এমন বেপরোয়া আচরণ ও আইনি হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী স্বামী আমিন মিয়া।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে কুলাউড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বরমচাল ইউনিয়নের খালিয়ারগড় গ্রামের বাসিন্দা আমিন মিয়া তাঁর লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৬ সালে একই ইউনিয়নের মৃত আলাই মিয়ার মেয়ে মৌসুমী বেগমের (২৭) সাথে তাঁর বিবাহ হয়। তাঁদের সংসারে তাহমিদ (৮), মরিয়ম (৭) ও আমেনা (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই মৌসুমী নানা অজুহাতে বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে অবাধ্য হয়ে চলাফেরা শুরু করেন। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও তিনি সিদ্ধান্ত অমান্য করেন।
আমিন মিয়া অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মৌসুমী বেগম ঘরে থাকা গরু বিক্রির ও সঞ্চিত লক্ষাধিক টাকা এবং তিন সন্তানকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। এর আগে তিনি বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে মামলা করে পরাজিত হন। পরবর্তীতে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দেন এবং সর্বশেষ আমিন মিয়ার বৃদ্ধ পিতাকে ফাঁসাতে নিজের ভাগ্নি নাদিয়াকে প্রভাবিত করে একটি ‘ধর্ষণ মামলা’ দায়ের করান। ওই মামলায় পুলিশ তদন্ত ছাড়াই আমিনের পিতাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
সংবাদ সম্মেলনে আমিন আরও জানান, তাঁর স্ত্রী ফোনে তাঁকে তালাক দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন, যার রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে। এদিকে, মামলার বাদী আমিনের ভাগ্নি নাদিয়া পরবর্তীতে ভুল বুঝতে পেরে আদালতে একটি আপোষনামা দাখিল করেছেন বলে জানা গেছে। গত ২২ জুন তিন সন্তানকে ফিরে পেতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মৌলভীবাজারে একটি মামলা দায়ের করেছেন আমিন মিয়া।
এ বিষয়ে বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আহমদ খান সুইট বলেন, আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে কয়েকবার তাঁদের পারিবারিক বিরোধ সমাধান করে দিয়েছি। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
কুলাউড়া থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুর রহমান জানান, শশুরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মেডিকেল রিপোর্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে। বাদী পক্ষ একটি আপোষনামা জমা দিয়েছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। আদালতই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে আমিন মিয়া তাঁর বৃদ্ধ পিতাকে কারামুক্ত করতে এবং সন্তানদের ফিরে পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
