দোয়ারাবাজারে মাত্র ৬০০ ফুট কাঁচা সড়কে চরম দুর্ভোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নে মাত্র ৬০০ ফুট দীর্ঘ একটি কাঁচা সড়কের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। উপজেলার পান্ডারগাঁও ইউনিয়নের চেংগাইয়া খেয়াঘাট হয়ে কৃষ্ণনগর, হিম্মতের গাঁও ও সাগরের গাঁওসহ পার্শ্ববর্তী গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই সড়কটি। বছরের পর বছর পার হলেও সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভ ও ভোগান্তি এখন চরমে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজারো মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় কষ্ট।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হদ্দুছ মিয়া বলেন, এই ৬০০ ফুট সড়ক দিয়ে ৪-৫টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। উপজেলা ও জেলা শহরে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ। অথচ সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তাটি হাঁটার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবীণ বাসিন্দা মো. শামসুল হক বলেন, নির্বাচন এলে জনপ্রতিনিধিরা ভোটের জন্য দোরে দোরে আসেন, কিন্তু কাজ শেষে আর কেউ খোঁজ নেন না। বহু বছর ধরে আমরা এই রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি। রাস্তার এই বেহাল দশা দেখে বিয়ের জন্য আসা পাত্র বা পাত্রী পক্ষও অনেক সময় ফিরে যায়। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।
আরেক বাসিন্দা মো. আব্দু রউফ ও মো. আ. নূর জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে কোনো অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে ঢুকতে পারে না। অনেক সময় রোগীকে খাটিয়া বা ভ্যানে করে কাদা মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ নিতে হয়। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এই বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, কৃষিপণ্য পরিবহনেও কৃষকদের চরম লোকসান গুনতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরুপ রতন সিংহ বলেন, বিষয়টি আমার আগে জানা ছিল না। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হলে আমি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে সড়কটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই স্বল্প দৈর্ঘ্যের সড়কটি পাকাকরণ করে জনদুর্ভোগ লাঘবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
