নবীগঞ্জে কোটি টাকার জমি নিয়ে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ১০
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের একটি জায়গার দখল-বেদখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে বড় ধরনের সংঘাত থেকে রক্ষা পায় শহরবাসী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে শহরের শেরপুর রোডস্থ ফুলকলি শোরুমের বিপরীত এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের খনকারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও শহরের হাসপাতাল রোডের ‘খালিক মঞ্জিল’-এর স্বত্বাধিকারী লন্ডন প্রবাসী মৃনাল চৌধুরী ও দিলাল চৌধুরীর সাথে তাদের চাচা ছানু চৌধুরী এবং চাচাতো ভাই গোলাম রসুল রাহেল চৌধুরীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। প্রায় ২-৩ মাস আগে মৃনাল ও দিলাল চৌধুরী বিরোধীয় জায়গায় একটি মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন। ইতিমধ্যে ভবনের পিলার ও নিচের লিন্টারের কাজ শেষ হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত সোমবার রাতে ছানু চৌধুরীর মেয়ের জামাতা সারোয়ার আহমেদ জেসন দলবল নিয়ে ওই জায়গার মালিকানা দাবি করে একটি টিনের ছাপরা ঘর নির্মাণ করেন। মঙ্গলবার সকালে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজে গিয়ে বিষয়টি মালিকপক্ষকে জানান। বিকেলে দিলাল চৌধুরী লোকজন নিয়ে ওই অবৈধ ছাপরা ঘরটি সরানোর চেষ্টা করলে ছানু চৌধুরী, তার জামাতা জেসন এবং অপর চাচাতো ভাই গোলাম রসুল রাহেলের পক্ষে জনৈক মবু মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক তাদের ওপর হামলা চালায়।
এতে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহারে পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় এংরাজ মিয়া (৫৫)-কে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহত রহমত মিয়া (৪৫), কুহিনুর চৌধুরী (৩৫), আতাউর চৌধুরী (৩২), ফয়সল মিয়া (২৮), লিপন মিয়া (৩৩), সারোয়ার আহমেদ জেসন (২৭) ও বন্ধন মিয়া (২২)-কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষের শুরুতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও ইটপাটকেলের কারণে পিছু হটতে বাধ্য হন। পরে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হোসেনের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে লন্ডন প্রবাসী দিলাল চৌধুরী বলেন, আমার পৈতৃক সম্পত্তিতে বৈধভাবে কাজ করাচ্ছি। কিন্তু একদল ভাড়াটে লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার এবং আমার নির্মাণ শ্রমিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে সারোয়ার আহমেদ জেসন বলেন, আমার স্ত্রী ও শ্বশুরের মালিকানা দাবি করতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমাদের নির্মিত ঘরটি তারা জোরপূর্বক তুলে দেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে।
নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হোসেন জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে জায়গা দখল-বেদখল নিয়ে এই সংঘর্ষ ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
