সিলেট ও মৌলভীবাজারে পানি বাড়ছে নদ-নদীর
অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও মৌলভীবাজারে বাড়ছে নদ-নদীর পানি। ৩০ ঘণ্টায় সিলেটে ১২৮.৬ মিলিমিটার ও মৌলভীবাজারে ২৪ ঘণ্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এখনো বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। কোথাও মুষলধারে, আবার কোথাও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২৮.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই ৩০ ঘণ্টায় সিলেটের অনেক স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১২টায় সিলেট আবহাওয়া অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়,মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি পাত রেকর্ড করা হয়েছে। এবং বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সিলেটের আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে সাময়িক মেঘাচ্ছন্ন থাকবে।
সিলেটের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে থাকতে পারে সাময়িক দমকা হাওয়া ও বজ্রপাত। কিছু কিছু জায়গায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সিলেটে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, এখন বর্ষাকাল বৃষ্টিপাত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে সিলেটে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারে ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। এখনো থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাড়ছে সব কটি নদীর পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন অলিদ জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বাড়ছে মনু, কুশিয়ারা, ধলাই ও জুড়ি নদ-নদীর পানি। মনু নদের পানি রেলওয়ে ব্রিজ এলাকায় ২২৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে এবং চাঁদনীঘাট এলাকায় ১৪৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধলাই নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১৫৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি শেরপুর পয়েন্টে বেড়ে ৯৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়েিএবং জুড়ি নদীর পানি বেড়ে ৭৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় দ্রুতই বাড়ছে নদ-নদীর পানি।
এতে বিপদে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষ। লোকজন একান্ত কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না।

