অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাল দিরাই মডেল উচ্চবিদ্যালয়
সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী দিরাই মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সব্যসাচী দাস চয়নের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। মঙ্গলবার তাঁর শেষ কর্মদিবসে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আবেগঘন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁকে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রাক্তন ছাত্র, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগপ্রবণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।
বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষককে সম্মাননা ক্রেস্ট, মানপত্র, পোশাক ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সব্যসাচী দাস চয়ন ১৯৮৭ সালের ৭ নভেম্বর দিরাই উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে তিনি দুই দফায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ৪ আগস্ট তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্থায়ীভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি টানা প্রায় ১৪ বছর ১০ মাস নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনি এই বিদ্যালয়েরই প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন।
বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে সব্যসাচী দাস চয়ন বলেন, এই বিদ্যাপীঠেই আমার শৈশব-কৈশোরের ৫টি বছর ছাত্র হিসেবে কেটেছে। এরপর প্রায় ৪০ বছর শিক্ষক হিসেবে সেবা দিয়েছি। শিক্ষকতা জীবনে অজান্তেও যদি কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে, তবে আমি ছাত্র, সহকর্মী ও অভিভাবকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক নিবেশ রঞ্জন দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার।
অনুষ্ঠানে বিদায়ী প্রধান শিক্ষকের পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তাঁর ছোট ভাই ও দিরাই সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক সন্দীপন কুমার দাস। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদুর হাসান অলেক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক মো. হারুন-অর-রশীদ চৌধুরী, বজ্রবল্লভ দাস, মো. আব্দুর নুর, রওশন আরা খাতুন, কৃপেশ রঞ্জন রায়, মো. আব্দুস সালাম ও মনিকা রায় প্রমুখ।
বক্তারা সব্যসাচী দাস চয়নের দীর্ঘ কর্মজীবনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। বিদায়বেলায় পুরো বিদ্যালয় এলাকায় এক বিষণ্ণ ছায়া নেমে আসে, যা প্রিয় শিক্ষকের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।
