বিশ্বনাথে মানবপাচারকারীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করে সিলেটের বিশ্বনাথ, বালাগঞ্জ, ওসমানীনগর এবং সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরের ২১জনের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারকারী দাবী করে বিশ্বনাথের আছকির-আজবর’সহ একই পরিবারের পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধ ইতিমধ্যে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন, বিশ্বনাথের উত্তর দশপাইকা গ্রামের আজিম খান (২৩)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর নোয়াগাঁও পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা আজবর আলী (৪৬), তার সৌদি প্রবাসী ভাই আছকির আলী (৫৫), রাজনা বেগম (৩৫), আছিয়া বেগম (৪৫) ও ফাহাদ আলী (২৫) সৌদি আরবে ড্রাইভিং ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের আরটিজিএস ও নগদে মোট ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু বিদেশে পাঠানোর সময় ঘনিয়ে এলে আসল ভিসার পরিবর্তে তাকে একটি তিন মাস মেয়াদী সাধারণ ভিসার পিডিএফ কপি ধরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও ট্রেনিংয়ের নামে ধাপে ধাপে আরও অর্থ আদায় করা হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে তাকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা বলে ঢাকায় নিয়ে গিয়ে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র, সৌদি ৫০০ রিয়াল এবং বাংলাদেশি ৬-৭ হাজার টাকা রেখে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ হলে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার আরও ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, যারা প্রত্যেকেই মানবপাচার চক্রের হাতে সর্বস্ব খুইয়েছেন।
একপর্যায়ে প্রায় ২১জন ভুক্তভোগী একত্রিত হয়ে ৮মার্চ দশঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ উদ্দিন খানের কাছে পাসপোর্ট ও টাকা ফেরতের দাবিতে বিচার প্রার্থনা করেন। চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে ১৫এপ্রিল, ৩মে ও ৯জুন তিন দফা নোটিশ দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা উপস্থিত না হওয়ায় ভুক্তভোগীদের আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পরে তারা বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইনে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালত, সিলেটে বিশ্বনাথ সি.আর. মামলা নং-২৪৯/২০২৬ দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মানবপাচারকারী চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শান্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ এবং সাধারণ মানুষকে এ ধরনের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন।
এব্যাপারে দশঘর ইউনয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদ খানের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযুক্তদের কোন সাড়া না পেয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হওয়ার জন্যে তিনি প্রত্যয়ন দিয়েছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, জগন্নাথপুর উপজেলার লহরী গ্রামের ভুক্তভোগী কাউসারের পিতা আইন উদ্দিন (৭৫), লহরী নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল জলিল (৬০), লহরী গ্রামের মোস্তাব আলী (৩৫), বালাগঞ্জ উপজেলার রিফাতপুর গ্রামের ভুক্তভোগীর চাচা রিয়াজ উদ্দিন (৫২), মজলিশপুর গ্রামের সবুজ মিয়া (২৫), ওসমানীনগর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামের মোঃ সেবুল মিয়া (৪৫), তাজপুর গ্রামের শাহান আলী (২৪), বিশ্বনাথ উপজেলার পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের জিল্লুর রহমান (৩৭), জগদ্বীশপুর গ্রামের আল আমিন (৩০) এবং দশঘর নোয়াগাঁও গ্রামের জুনাব আলী (৪৫)সহ আর অনেকেই।
অভিযুক্ত আছকির এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধ এই ভিত্তিহিন এনেছে। তিনি আইনিভাবে এই মিথ্যা অপপ্রচারের মোকাবিলা করবেন বলেও জানান।
