শাল্লায় মডেল মসজিদ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি প্রকল্পের রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণাধীন রিটেইনিং ওয়ালে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম রড ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রডগুলো অত্যন্ত ফাঁকা করে বসানো হচ্ছে। এছাড়া শুকনো মৌসুমে কাজ শেষ না করে বর্তমানে বর্ষার পানির মধ্যে তড়িঘড়ি করে অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্মাণস্থলে কাজের গুণগত মান তদারকির জন্য কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী উপস্থিত থাকেন না। ফলে শ্রমিকরা তাদের খেয়ালখুশিমতো কাজ করছেন। সাইটে কর্মরত কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকার করেন যে, পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে কোনো প্রকৌশলী সাইটে আসেননি; তারা নিজেরাই কাজ চালিয়ে নিচ্ছেন।
রডের দূরত্বের বিষয়ে জানতে চাইলে সাইটে উপস্থিত একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি দায়সারাভাবে বলেন, কিছু জায়গায় রড একটু ফাঁকা হয়েছে, তবে পরে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।
এর আগে গত ৮ জুন দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে শাল্লা মডেল মসজিদ নির্মাণে দুর্নীতির খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মডেল মসজিদের কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণস্থলে উপস্থিত ফোরম্যানকে তলব করেন এবং সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথ মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, মডেল মসজিদের মতো একটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজে এমন চরম অবহেলা ও দুর্নীতির প্রতিকার চেয়েছেন এলাকাবাসী। তারা প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং এই অনিয়মের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
