দোয়ারাবাজারে বর্ণিল কমিউনিটি সেফটি ফোকাল মেলা
‘শুনিলে বজ্রধ্বনি, ঘরে যাবো তখনি’—এই সচেতনতামূলক স্লোগানকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে ‘কমিউনিটি সেফটি ফোকাল মেলা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল ৯টায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাঠে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই মেলা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতায় এবং এফোর্টস ফর রুরাল অ্যাডভান্সমেন্ট (ইরা)-এর ‘লাইট’ (LIGHT) প্রকল্পের আওতায় এই সচেতনতামূলক মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
ইরা’র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মানবিক সহায়তাকারী অ্যাক্টর মোহাম্মদ সাজেদ, ইরা’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কামরুজ্জামান, মেডিকেল অফিসার ডা. সোনিমা, সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফুর রহমান।
ইরা সংস্থার মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন অফিসার মো. ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তারা বজ্রপাত থেকে জীবন রক্ষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তারা বলেন, বজ্রপাতের শব্দ শোনার সাথে সাথে ঘরের বাইরে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলে অবশ্যই প্লাস্টিকের স্যান্ডেল বা জুতা ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া বজ্রপাতের সময় পুকুর, নদী বা যেকোনো জলাশয়ে মাছ ধরা ও নৌকা চালানো থেকে বিরত থাকতে হবে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা হওয়ায় কৃষক ও জেলেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাওরে পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপদ ‘বজ্রপাত ছাউনি’ বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের অবকাঠামো নির্মিত হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষ দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারবে এবং প্রাণহানি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় ৫টি সচেতনতামূলক স্টল স্থাপন করা হয়। স্টলগুলোতে বজ্রপাত ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় বিষয়গুলো প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। অতিথিবৃন্দ ও সাধারণ দর্শনার্থীরা স্টলগুলো ঘুরে দেখেন এবং দুর্যোগ সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের আয়োজনকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর বলে অভিহিত করেন।
মেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
