মাওলানা আব্দুল জব্বার ছিলেন অন্যায় ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর
জৈন্তাপুরের কৃতী সন্তান, বিশিষ্ট আলেম ও সমাজসেবক মরহুম মাওলানা আব্দুল জব্বার (রহ.)-এর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেন, মাওলানা আব্দুল জব্বার ছিলেন বৃহত্তর সিলেটের এক কীর্তিমান পুরুষ। তিনি কেবল একজন দক্ষ শিক্ষাবিদই ছিলেন না, বরং সমাজের সকল অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অসঙ্গতির বিরুদ্ধে ছিলেন এক আপসহীন ও প্রতিবাদী মুজাহিদ।
রোববার (১৪ জুন) বিকাল ৩টায় জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ জৈন্তাপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়। জমিয়তের কেন্দ্রীয় সদস্য ও উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বারের বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম তুলে ধরতে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা জমিয়ত নেতা মাওলানা ওলিউর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহিবুল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুল হাদিস হরিপুর বাজার মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা শায়খ হিলাল আহমদ। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী।
বক্তারা আরও বলেন, মাওলানা আব্দুল জব্বার দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে মাদ্রাসা শিক্ষার প্রসারে নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শিক দৃঢ়তা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব তাঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে দিয়েছে। তাঁর প্রয়াণে সমাজ একজন অকৃত্রিম অভিভাবককে হারিয়েছে, তবে তাঁর কর্ম ও শিক্ষা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলেন—দারুল হাদিস খরিলহাট মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আবু হানিফ, জাতুগ্রাম মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা রুহুল আমিন, লাফনাউট মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা ফয়জুল করিম, খরিলহাট মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা শফিকুল হক, পাখিবিল মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা ফয়জুল ইসলাম, আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা আব্দুল হামিদ এবং লামনীগ্রাম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত মুহতামিম মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন—হাফিজ আনোয়ার হোসেন, মাওলানা আব্দুল মতিন, মাওলানা আব্দুর রউফ, জেলা জমিয়তের (উত্তর) সহ-সভাপতি মাওলানা কুতুব উদ্দিন এবং মরহুমের সাহেবজাদা হাফিজ মাওলানা নাকিব আসজাদ।
আলোচনা সভা শেষে মরহুম মাওলানা আব্দুল জব্বার (রহ.)-এর রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।
