শরিকে কোরবানি দেয়া যায় না যেসব পশু
ঈদুল আজহায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পশু কোরবানি করা মুসলমানদের জন্য এক মহান ইবাদত। তবে অনেকেই জানেন না— কোন পশু কোরবানির জন্য বৈধ, কোন বয়সের পশু হতে হবে কিংবা কী ধরনের ত্রুটি থাকলে কোরবানি সহিহ হবে না।
ইসলামি শরিয়তের আলোকে কোরবানির জন্য নির্ধারিত কিছু পশু রয়েছে। এগুলোর বাইরে অন্য কোনো পশু কোরবানি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
যেসব পশু কোরবানির জন্য বৈধ
ইসলাম অনুযায়ী গৃহপালিত চতুষ্পদ প্রাণীর মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি পশু কোরবানি করা যায়। সেগুলো হলো গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, উট। এসব পশুকেই আরবিতে ‘বাহিমাতুল আনআম’ বলা হয়, অর্থাৎ গৃহপালিত চারণভোজী পশু। হরিণ, মুরগি, হাঁস কিংবা বন্য প্রাণী কোরবানির জন্য বৈধ নয়।
কোন পশুতে কতজন শরিক হতে পারেন
গরু, মহিষ ও উট এই তিন ধরনের বড় পশুতে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হয়ে কোরবানি দিতে পারেন। তবে প্রত্যেকের নিয়ত হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এছাড়া,ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা এ ধরনের ছোট পশুতে একজনের পক্ষ থেকেই কোরবানি করতে হয়। এতে শরিক হওয়ার সুযোগ নেই।
কোরবানির পশুর বয়স কত হতে হবে
শুধু পশুর ধরন হলেই হবে না, নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়াও জরুরি। ইসলামি বিধান অনুযায়ী উটের বয়স কমপক্ষে ৫ বছর হতে হবে। গরু বা মহিষের বয়স কমপক্ষে ২ বছর হতে হবে। ছাগলের বয়স কমপক্ষে ১ বছর হতে হবে। ভেড়া বা দুম্বার বয়স কমপক্ষে ১ বছর হওয়া উত্তম। তবে কিছু ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান ও মোটাতাজা ছয় মাস বয়সী ভেড়া বা দুম্বা দেখতে এক বছরের মতো হলে কোরবানি বৈধ হতে পারে।
যেসব ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানির জন্য বৈধ নয়
ইসলাম পশুর প্রতিও দয়া ও যত্নের শিক্ষা দেয়। তাই মারাত্মক ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করা নিষিদ্ধ। যেমন- সম্পূর্ণ অন্ধ পশু,স্পষ্ট খোঁড়া পশু, অত্যন্ত রোগা ও দুর্বল পশু, কান বা লেজের বড় অংশ কাটা, দাঁড়াতে অক্ষম পশু, মারাত্মক অসুস্থ পশু। অর্থাৎ, এমন পশু নির্বাচন করতে হবে যা সুস্থ, সবল ও ত্রুটিমুক্ত।
কোরবানির মূল শিক্ষা
কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের প্রতীক। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না; পৌঁছে মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা।তাই কোরবানির সময় বাহ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং সঠিক নিয়ম মেনে আন্তরিকতার সঙ্গে ইবাদত আদায় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

