মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিজেই যাচাই করছেন এমপি এমরান চৌধুরী
সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কোনো সময়ক্ষেপণ না করেই তিনি বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করতে নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্বাচিত হয়ে এমপি এমরান চৌধুরী কেবল উন্নয়নের নতুন রূপরেখা দিচ্ছেন না, বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভেদ ঘুচিয়ে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জননিরাপত্তা বজায় রাখা হবে তাঁর অন্যতম অগ্রাধিকার।
জনগণের চাহিদার ভিত্তিতে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলোর একটি তালিকা তৈরি করে বুধবার থেকে তিনি সরজমিনে পরিদর্শনে নেমেছেন। দুপুরে তিনি বিয়ানীবাজারের মেঘাখালের ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন। এরপর কাটলিপুল-গোলা খেয়াঘাট রাস্তার উন্নয়ন কাজ এবং সুরমা নদীর তীরবর্তী গোলাঘাট এলাকা পরিদর্শন করেন। এর আগে তিনি আলীনগর ইউনিয়নের ফুলমলিক এলাকায় একটি সেতুর সম্ভাব্য স্থান ঘুরে দেখেন।
বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের অভিশাপ জলাবদ্ধতা নিরসনেও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন এমপি। তাঁর নির্দেশের পর পরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক উম্মে হাবিবা মজুমদার পানি নিষ্কাশনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এরই মধ্যে শহীদ টিলা এলাকার পানি নিষ্কাশনের জন্য খশির সড়কভাংনী পর্যন্ত ড্রেন নির্মাণ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী কোনো প্রকার প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন। কখনও মোটরসাইকেলে চড়ে দুর্গম এলাকায় যাচ্ছেন, আবার কখনও কার্যালয়ে বসে শত শত মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনছেন।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, যেকোনো প্রকল্প গ্রহণের আগে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা সবচেয়ে জরুরি। আর্থ-সামাজিকভাবে যদি সাধারণ মানুষ প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত না হয়, তবে সেই অর্থ ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। আমরা 'শ্বেতহস্তী' মার্কা কোনো প্রকল্প চাই না, বরং মানুষের কল্যাণে টেকসই উন্নয়ন করতে চাই।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন, বিয়ানীবাজারে এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এমপি সাহেবের কাছে এখন মানুষ যাচ্ছে না, বরং খোদ এমপিই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন।
বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা ও প্রচার সম্পাদক ফয়েজ আহমদ জানান, দলমত নির্বিশেষে মানুষ এখন উন্নয়নের আশা দেখছে। বিয়ানীবাজার পৌর ছাত্রদলের সভাপতি আয়নুল আবেদীন বলেন, এমপির নির্দেশে পৌর এলাকার প্রধান সড়ক সংস্কার এবং গ্রামীণ যোগাযোগের উন্নয়নে অন্তত এক ডজন রাস্তার কাজ দ্রুতই শুরু হতে যাচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই অগ্রযাত্রায় বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ এক আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের।
