ওসমানীনগরে জিরা চোরাচালান মামলা: কালামের রিমান্ড শুনানি ১২ মে
সিলেটের ওসমানীনগরে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা জব্দের ঘটনায় আটক আবুল কালাম আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম গতকাল রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, রিমান্ড আবেদনের ওপর আগামী ১২ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কোনো রুট ব্যবহার করে এসব অবৈধ মালামাল দেশে আনা হতো এবং এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতেই রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ৫ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে অভিযান চালায়। আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে পরিচালিত এই অভিযানে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে ৬০৩ বস্তা (১৮ হাজার ৯০ কেজি) ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
অভিযান চলাকালে পালানোর চেষ্টাকালে পুলিশ মো. আবুল কালাম আজাদকে (৪৪) আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কালাম জানান, তিনি তাঁর পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ সহযোগীদের নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পথে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় জিরা দেশে এনে বাজারজাত করে আসছিলেন।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র বাদী হয়ে আবুল কালাম, তাঁর ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আটক আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অজ্ঞাতনামা জড়িতদের নাম ও চোরাচালানের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলে অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও প্রভাবশালী কয়েকজনের নাম পুলিশের জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে এজাহারে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, "আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের নাম বেরিয়ে আসবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
