কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে: এমপি কামরুল
জামালগঞ্জ: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে চলতি মৌসুমের অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে উপজেলার সাচনা এলএসডি খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমপি কামরুল বলেন, ‘কৃষকের ঘাম ঝরানো ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। দেশের খাদ্য মজুত ও নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। হাওরাঞ্চলের যেসব কৃষক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির মুখে পড়েছেন, সরকার তাঁদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অধিক সংখ্যক কৃষককে সহায়তার আওতায় আনতে এই তালিকা প্রণয়নের সময় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি কৃষকদের সরকারি নিয়ম মেনে ধান সরবরাহের আহ্বান জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল মতিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা, জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বন্দে আলী, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পিযূষ কান্তি মজুমদার এবং জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. লুৎফুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাচনা এলএসডির খাদ্য নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান কামাল।
রাজনৈতিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক আফিন্দী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মালিক ও আজিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ শাহজাহান, সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া, ভীমখালী ইউপি চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার, জামালগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. কামাল হোসেন, উপজেলা যুবদল আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক স্বপন, কৃষকদলের আহ্বায়ক মোবারক হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুর রহমান এবং ছাত্রদল সভাপতি তৌফিকুর রহমান প্রমুখ।
উপজেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জামালগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৩৭৩ টন ধান, ১ হাজার ২ টন আতপ চাল এবং ৩ হাজার ৯৯২ টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের দাম ৩৬ টাকা, আতপ চাল ৪৮ টাকা এবং সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরাসরি কৃষক ও তালিকাভুক্ত মিলারদের কাছ থেকে এসব ধান ও চাল সংগ্রহ করা হবে।
