বিয়ানীবাজার পৌরশহরে যত্রতত্র পার্কিং, সড়ক দখলে জনভোগান্তি তুঙ্গে
সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌরশহরে অপরিকল্পিত ও অবৈধ পার্কিং ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে পৌরশহরের প্রধান সড়কগুলো সংকুচিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে দিনরাত তীব্র যানজটে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। তিন চাকার ক্ষুদ্র যানবাহনের পাশাপাশি বাস-ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের দীর্ঘ সারি সড়কের ওপরই স্থায়ী স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
পৌরশহরের প্রবেশদ্বার নয়াবাজার থেকেই সড়কের ওপর পার্কিংয়ের বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে রাখে ঢাকাগামী দূরপাল্লার বাসগুলো। হাসপাতালের সামনে গেলেই দেখা যায় সারি সারি অ্যাম্বুলেন্সের জটলা। এছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিক্সা ও প্রাইভেট কারের চালকরা কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখছেন। ফলে দুই লেনের সড়ক কার্যত এক লেনে পরিণত হয়েছে।
সড়কের ওপর গাড়ি পার্কিংয়ের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জরুরি সেবা। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, মুমূর্ষু রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স কিংবা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যানজটের কারণে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। এতে জানমালের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সড়ক দখলের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। উত্তর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দোকানের সামনে হাজার হাজার টাকা ভাড়া দিই। অথচ দোকানের ঠিক সামনেই সারাদিন গাড়ি পার্কিং করে রাখা হয়। এতে কাস্টমাররা দোকানে ঢুকতে পারেন না। এটি খুবই দুঃখজনক।” স্থানীয় বাসিন্দা শামসুদ্দিন বলেন, পুরো একটা সাইড দখল করে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে বাকি লেনে সব গাড়ি গাদাগাদি করে চলে, দিনভর জ্যাম লেগেই থাকে।
পৌরশহরের অধিকাংশ বিপণিবিতান ও বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে ভবন নির্মাণ বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) উপেক্ষা করে। এসব ভবনে নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় মার্কেটে আসা যানবাহনগুলো বাধ্য হয়ে সড়কেই পার্কিং করছে। পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস নিশ্চিত না করে ভবন নির্মাণের অনুমতি দেওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পৌরশহরে দায়িত্বরত এক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য জানান, ট্রাফিক বিভাগ প্রতিনিয়ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছে। পরিবহন শ্রমিকদের অসচেতনতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হচ্ছে। তবে জনভোগান্তি লাঘবে এখন থেকে পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
