ওসমানীনগরে আ.লীগ নেতার বাড়িতে মিলল সোয়া কোটি টাকার জিরার চালান
আটক ১, মামলা দায়ের
সিলেটের ওসমানীনগরে পুলিশি অভিযানে ১ কোটি ১২ লাখ টাকারও বেশি মূল্যের বিশাল এক অবৈধ ভারতীয় জিরার চালান জব্দ করা হয়েছে। গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে পরিচালিত এই অভিযানে ৬০৩ বস্তা জিরা উদ্ধারসহ একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে চোরাচালান সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের নাম মামলায় না আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে অভিযান চালায়। তারা আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে আনা ৬০৩ বস্তা ভারতীয় জিরা উদ্ধার করে। জব্দকৃত মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি জিরার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৪) নামে একজনকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কালাম স্বীকার করেছেন যে, তিনি তাঁর পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ একটি চক্রের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় জিরা এনে বাজারে বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আবুল কালাম, তাঁর ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম পুলিশ জানলেও রহস্যজনক কারণে এজাহারে তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিশেষ করে জৈন্তাপুর উপজেলার মোহন মিয়া নামক এক ব্যক্তির নাম আলোচনায় উঠে এসেছে, যিনি বর্তমানে ওসমানীনগর থানা সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে জানা যায়। তবে মামলায় তাঁর নাম নেই। এ বিষয়ে মোহন মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চোরাচালান ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, “৫ আগস্টের পর আমি এই ব্যবসা ছেড়ে এখন বালুর ব্যবসা করছি।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরর্শেদুল আলম ভূঁইয়া বলেন, আটক আসামি ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক আসামিকে ইতিমধ্যেই আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
