শাল্লায় টানা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড কৃষি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
ধানের কম দামে দিশেহারা কৃষক
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় টানা দুই দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও বজ্রপাতে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধান কাটার ভরা মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষি খাত। বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে হাওরের পাকা ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। বৃষ্টির পানিতে অনেক ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। যারা আধা-পাকা বা পাকা ধান কেটেছিলেন, তারা মাড়াই ও শুকানোর সুযোগ না পাওয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে যোগ হয়েছে ধানের বাজারমূল্য নিয়ে সংকট। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম বর্তমানে ৭০০ থেকে ৭২০ টাকার বেশি উঠছে না। এই দামে ধান বিক্রি করলে তাদের উৎপাদন খরচও উঠছে না। এক কৃষক আর্তনাদ করে বলেন, একদিকে টানা বৃষ্টিতে ধান ঘরে তোলা যাচ্ছে না, অন্যদিকে বাজারে ধানের দাম নেই। সব মিলিয়ে আমরা এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছি।
এদিকে, প্রবল বৃষ্টির সাথে ঝোড়ো হাওয়ার কারণে দিরাই-শাল্লা সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। ফলে সোমবার থেকে উপজেলার ডুমরা, ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো জনপদ রাতে অন্ধকারে ডুবে থাকছে এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কৃষকরা অবিলম্বে সরকারি সহায়তা ও ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ালে হাওর এলাকায় খাদ্য ও অর্থনৈতিক সংকট তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর অর্থনৈতিক মন্দার দ্বিমুখী চাপে শাল্লার কৃষক ও সাধারণ মানুষের মাঝে এখন গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
