নবীগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ৪০০ হেক্টর বোরো ধান
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় গত কয়েক দিনের অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে কৃষকের স্বপ্ন। উপজেলার বিভিন্ন হাওর ও নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির পাকা বোরো ধান এখন পানির নিচে। ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে কষ্টের ফসল তলিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন হাজারো কৃষক।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাওর এলাকায় প্রায় ৬৭ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হলেও বাকি অংশ এবং নন-হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৪০০ হেক্টর পাকা ফসল গত দুদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার গুঙ্গিয়াজুড়ি ও মকার হাওরসহ বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সোমবার রাত থেকে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক স্থানে কৃষকদের বুক সমান পানিতে নেমে আধা-পাকা ধান কাটতে দেখা গেছে। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় এই অঞ্চলে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গুঙ্গিয়াজুড়ি হাওরের কৃষক আব্দুল কাহার চৌধুরী আর্তনাদ করে বলেন, ধান কাটার ঠিক আগ মুহূর্তে সব তলিয়ে গেল। অনেক আশা নিয়ে ঋণ করে চাষাবাদ করেছিলাম। এখন ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, আর সারা বছর পরিবার নিয়ে কী খাব—তা ভেবে কূল পাচ্ছি না।
একই পরিস্থিতির কথা জানান মকার হাওরের কৃষক জুনেদ মিয়া। তিনি বলেন, আমাদের সব শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ধান ফলিয়েছিলাম, কিন্তু ভাগ্য সহায় হলো না। সবকিছু চোখের সামনে ডুবে যেতে দেখছি।
নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফজলুল হক মনি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত দুই-তিন দিনের মুষলধারে বৃষ্টির ফলে নবীগঞ্জের নিচু এলাকার প্রায় ৪০০ হেক্টর বোরো ধানের পাকা ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের খোঁজখবর নিচ্ছি এবং দ্রুত পাকা ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিচ্ছি।
আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অনেকেই সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।
