রাজনগরে কাশিমপুর পাম্প হাউস পরিদর্শন করলেন ইউএনও
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদীঘি হাওরপাড়ের কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে অবশেষে কাশিমপুর পাম্প হাউস পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিপুল সিকদার। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে ১নং ফতেপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই সেচ পাম্প হাউসে গিয়ে তিনি কৃষকদের অভিযোগ শোনেন এবং পাম্পগুলো সচল করার নির্দেশ দেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল আমীন, দৈনিক ইনকিলাবের রাজনগর সংবাদদাতা মাওলানা মুহাম্মদ গৌছুজ্জামান এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাম্পগুলো নিয়মিত চালু না থাকায় কাউয়াদীঘি হাওরের নিচু এলাকার প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ একর আধা-পাকা ধানি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পাম্প বন্ধ থাকায় হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে, ফলে অনেক কৃষকের সারা বছরের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, টানা বৃষ্টিতে হাওরের নিচু এলাকার এক-তৃতীয়াংশ জমি তলিয়ে গেছে। বাকি জমিও ডুবু ডুবু অবস্থা। কাশিমপুর পাম্প হাউসের পাম্পগুলো নিয়মিত চালু থাকলে আমাদের এই ক্ষতি হতো না। গত দুই দিন পাম্প বন্ধ থাকায় আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, সরেজমিনে এসে আমি পাম্পগুলো চালুর ব্যবস্থা করেছি। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে পাম্পগুলো নিয়মিত সচল রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি যাতে সেচ পাম্পগুলো নিয়মিত চালু রাখা হয়।
তিনি আরও জানান, কৃষকরা যাতে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কাটতে পারেন, সেজন্য ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে হাওরের ধান কাটা সম্পন্ন হবে।
