ময়নাতদন্ত রিপোর্টেই ঝুলে আছে বিয়ানীবাজারে সুনীল হত্যা মামলার তদন্ত
সিলেটের বিয়ানীবাজারে ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুনীল আচার্য্যের (৫০) রহস্যজনক মৃত্যুর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এর কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। নিখোঁজের তিন দিন পর বাড়ির পাশের জঙ্গল থেকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করা হলেও ঘটনার রহস্য এখনো অন্ধকারে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।
মামলার বিবরণ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ হন খাসা গ্রামের মৃত সুখময় আচার্যের ছেলে সুনীল আচার্য্য। পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি সুনীল ঐদিন রাতে কসবা ত্রিমুখী বাজারে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের তিন দিন পর ৫ অক্টোবর রবিবার সকালে খাসা এলাকায় তাঁর নিজ বাড়ির অদূরে একটি পরিত্যক্ত জঙ্গল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মরদেহ উদ্ধারের সময় সুনীলের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। বিশেষ করে তাঁর হাতে কাটার দাগ এবং শরীরের সংবেদনশীল অঙ্গে জখম পাওয়া গিয়েছিল। ঘটনাস্থলে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি পড়ে থাকলেও তাঁর মানিব্যাগ পাওয়া যায়নি, যা হত্যাকাণ্ডটিকে পরিকল্পিত বলে ইঙ্গিত দেয়।
ঘটনা তদন্তে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও মাঠে নামে। তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিয়ানীবাজার থানার এসআই কালাম জানান, দীর্ঘ ছয় মাস পার হলেও এখনো ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে পৌঁছায়নি। এই প্রতিবেদন না আসায় তদন্তে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, নিহতের ভাই ও মামলার বাদী বকুল আচার্য্য পুলিশের দীর্ঘসূত্রতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও এখনো রহস্য উদঘাটিত হয়নি। আমরা সুষ্ঠু বিচার চাই।" হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচনে পরিবারটি ইতিমধ্যে তদন্তের দায়িত্ব অন্য কোনো সংস্থাকে দেওয়ার জন্য সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
অন্যদিকে, সুনীল আচার্য্যের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় নানা গুঞ্জন চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী এক সাংবাদিকের ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ‘অসম প্রেমের বলি’ হওয়ার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তদন্তের ক্ষেত্রে পেশাগত শত্রুতা, মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততা কিংবা ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল কি না—সব দিকই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো আমাদের হাতে আসেনি। তবে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। খুব শিগগিরই এই রহস্যের জট খুলবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সুনীল হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এখন এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা হোক।
