জাফলংয়ে বালু লুটপাট ঠেকাতে প্রশাসনের অভিযান
২ জনকে কারাদণ্ড, ধ্বংস করা হলো ৫ মেশিন
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধে টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে কৃষি জমি ও বসতভিটা ধ্বংস করে বালু উত্তোলনের দায়ে দুই ব্যক্তিকে আটক করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি পেলোডার, একটি ট্রাক ও ৪শ ঘনফুট বালু জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (১ মার্চ) দুপুরে গোয়াইনঘাটের উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারীর নেতৃত্বে জাফলংয়ের লাখেরপাড় এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাফলংয়ের লাখেরপাড় গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্বিচারে কৃষি জমি ও বসতভিটা কেটে বালু ও পাথর উত্তোলন করে আসছিল। এর ফলে ওই এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, মসজিদ ও কবরস্থানসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এছাড়া যত্রতত্র মাটি কাটার ফলে ওই এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ রোববার দুপুরে লাখেরপাড় এলাকায় অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে দু’জনকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযানকালে বালু লোড-আনলোডের কাজে ব্যবহৃত ২ টি পেলোডার ও ১টি ট্রাক জব্দ করার পাশাপাশি অবৈধ বালু উত্তোলনের ৫টি মেশিন বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া জব্দ করা হয় স্তূপীকৃত ৪শ ঘনফুট বালু।
অভিযান শেষে গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, পরিবেশ বিধ্বংসী বালু উত্তোলন ও লুটপাট ঠেকাতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা কৃষি জমি ও সাধারণ মানুষের বসতভিটা ধ্বংস করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ টাস্কফোর্সের এই ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এই অভিযানের ফলে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা অবিলম্বে জাফলংয়ের পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
