এমপি নির্বাচিত হলে পাথরকোয়ারী খুলে দেয়া হবে
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. জয়নাল আবেদীন বলেছেন, দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে গোয়াইনঘাটের মানুষ অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার। আমরা নির্বাচিত হলে এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি পাথরকোয়ারীগুলো খুলে দেব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও সমৃদ্ধ এক গোয়াইনঘাট গড়ে তোলা হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোয়াইনঘাট উপজেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ১১ দলীয় জোটের বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জয়নাল আবেদীন বলেন, ২৪-এর তরুণদের গণঅভ্যুত্থানের ফলেই আজ জাতি এই নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, গোয়াইনঘাটে এখনো আধুনিক হাসপাতাল নেই, মানুষ সুচিকিৎসা পায় না। প্রতিটি ইউনিয়নে এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। বছরের পর বছর এখানে চাঁদাবাজি ও লুটতরাজ চলেছে। আমরা এই শোষণ থেকে মুক্তি চাই।
২০২২ সালের প্রলয়ংকরী বন্যার স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বন্যার সময় যখন মানুষ হাহাকার করছিল, তখন যারা বাইরে থেকে এসে আজ নির্বাচন করছেন, তাদের কাউকে পাশে পাওয়া যায়নি। আমি তখন আপনাদের পাশেই ছিলাম। আমি নির্বাচিত হলে হাওর উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করব এবং স্থানীয় সম্পদ কাজে লাগিয়ে এখানে শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলব, যাতে বেকারদের কর্মসংস্থান হয়।
প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমাদের পোস্টার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জনতা এবার জেগে উঠেছে। আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আজ গণমানুষের নেতায় পরিণত হয়েছেন। আগামী ১২ তারিখ প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। বিজয় মিছিল না নিয়ে কেউ কেন্দ্র ছাড়বেন না। ইনশাআল্লাহ, ব্যালট বিপ্লবে জনতার জয় নিশ্চিত।
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাস্টার আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন—জেলা জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এহতেশাম হক, জেলা সদস্য সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ, মহানগর সদস্য সচিব কিবরিয়া সারোয়ার, জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সল আহমদ এবং ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বিল্লাল আহমদ চৌধুরী।
এছাড়াও এনসিপি নেতা মোস্তাক আহমদ, মাওলানা নাজমুল ইসলাম নোমানী, বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আব্দুল লতিফ, সাংবাদিক মনজুর আহমদসহ স্থানীয় জোট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জনসভা শেষে জয়নাল আবেদীনের সমর্থনে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
