এই অঞ্চলের মানুষ ইলিয়াস আলীর আমানত
ওসমানীনগরে জনসভায় তাহসিনা রুশদী লুনা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদী লুনা বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে জনগণের কল্যাণে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। আপনাদের ভোটে আমি নির্বাচিত হলে আমার স্বামী এম ইলিয়াস আলীর রেখে যাওয়া উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখবো।
রোববার সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর বাজার সদসরুন্নেসা হাইস্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সময় আমার ছেলে-মেয়েরা খুব ছোট ছিল। অনেকেই আমাদের বিদেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। আমাদের নিজেদের মধ্যেও সে চিন্তা ছিল। কিন্তু ওসমানীনগর ও বিশ্বনাথের মানুষ আমাদের পরিবারের মতো পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আপনাদের ছেড়ে যেতে পারিনি বলেই সেদিন বিদেশে যাইনি।
তিনি বলেন, এই অঞ্চলের মানুষ ইলিয়াস আলীর আমানত। আমি মনে করেছি, আপনাদের একজন অভিভাবক দরকার। এই এলাকার মানুষ কার আশ্রয়ের রাজনীতি করবে—সেই চিন্তা ও ভালোবাসা থেকেই আমি আপনাদের পাশে ছিলাম। দীর্ঘ পথ চলতে চলতে কেউ আমাদের বন্ধু হয়েছেন, কেউ সন্তানের মতো হয়েছেন। আমরা এই এলাকার মানুষকে আমাদের পরিবার মনে করি।
বিএনপির এই প্রার্থী আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আপনারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, অসংখ্য মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই কঠিন সময়ে আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম, কিন্তু আপনাদের জন্য তেমন কিছু করতে পারিনি—এটা আমার কষ্ট।
এম ইলিয়াস আলীর অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী নির্বাচিত হওয়ার পর এই আসনকে একটি উন্নয়ন জনপদে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু তার নিখোঁজের পর একাধিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন হয়নি।
ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তাহসিনা রুশদী লুনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের হারানো অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। তিনি ভোটারদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি নারীদের জন্য আলাদাভাবে কাজ করবে। এর মধ্যে নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’, কৃষকদের অধিকার ও উৎপাদন বাড়াতে ‘কৃষি কার্ড’, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করা এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ ও সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সহসভাপতি ও এম ইলিয়াস আলীর ভাই আসকির আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ময়নুল হক চৌধুরী, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মতাহির আলী, এম ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে ব্যারিস্টার ইলিয়াস অর্ণব, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি নাজমুল হাসনাত চৌধুরী রেসাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসতিয়াক আহমদ ও মুদাচ্ছির খান, যুক্তরাজ্য যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুফান আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা আবু হানিফ।
জনসভায় উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
