জনগণকে তাদের ক্ষমতা বুঝিয়ে দিতেই ১১ দলীয় জোটের জন্ম
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, ১১ দলীয় জোট কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়নি। আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি দেশের মানুষকে তাদের প্রকৃত ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আমাদের লক্ষ্য একটাই—আগামী দিনে শোষণমুক্ত, লুণ্ঠনমুক্ত এবং ইনসাফভিত্তিক একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ জে কে হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক বিশাল মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, বিগত ৫৪ বছর ধরে এ দেশের মানুষকে শাসনের নামে শোষণ করা হয়েছে। মানুষের অধিকারের কথা বলে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। দেশের গরিব মানুষের রক্ত জল করা টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই আধিপত্যবাদী শক্তি ও জুলুমের হাত থেকে দেশবাসীকে মুক্তি দিতেই ছাত্র-জনতার ‘২৪-এর জুলাই বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আবু সাঈদসহ দেড় সহস্রাধিক শহীদের রক্ত এবং ৩০ হাজার যোদ্ধার পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত এই বিপ্লবকে অর্থবহ করতে ‘জুলাই সনদ’ তৈরি করা হয়েছে। এই সনদকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়েই ঐতিহাসিক ১১ দলীয় জোট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যদি জনগণের রায় ছিনতাই করা না হয় বা কোনো প্রকার ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ না হয়, তবে ইনশাআল্লাহ ১১ দলীয় জোট বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।
নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকার গ্যাস সমস্যা নিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে ইনসাফ কায়েম করা হবে। বিবিয়ানা ও রশিদপুরের গ্যাস প্রথমে নবীগঞ্জ-বাহুবলের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে, এরপর অতিরিক্ত গ্যাস দেশের অন্য এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা স্বৈরাচারকে হটিয়েছি। এখন ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের লড়াইয়ে ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জুল হুসাইন মিরাজী, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মশিউর রহমান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, নেজামে ইসলাম পার্টির মাওলানা জুবায়ের আহমেদ খান, প্রিন্সিপাল আব্দুল কাইয়ুম জাকি এবং কাজী মোখলেছুর রহমানসহ জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
নবীগঞ্জের ঐতিহাসিক এই মহাসমাবেশে সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল সহকারে কয়েক হাজার মানুষ সমবেত হন। পুরো স্কুল মাঠ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
