হোয়াইট মোহামেডানকে ১৬২ রানে উড়িয়ে দিল অনিবার্ণ
সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে চলমান প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে যেন এক অঘোষিত নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে—আগে ব্যাটিং করলেই জয়! লিগের টানা ১৩টি ম্যাচে আগে ব্যাট করা দলগুলোই শেষ হাসি হেসে মাঠ ছেড়েছে।
বৃহস্পতিবারের (১৫ জানুয়ারি) ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। লিগের ১৩তম ম্যাচে হোয়াইট মোহামেডানকে ১৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অনিবার্ণ ক্রীড়া চক্র।
এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে অনিবার্ণ। অন্যদিকে, টানা তিন হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে (১০ম স্থানে) অবস্থান করছে হোয়াইট মোহামেডান।
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ও পেনহিল লজিস্টিকসের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টসে জিতে অনিবার্ণ ক্রীড়া চক্রকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় হোয়াইট মোহামেডান। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৫১ রান সংগ্রহ করে অনিবার্ণ। দলের পক্ষে ওপেনার ইমরান ১০৭ বলে ১টি চারের সাহায্যে ৭১ রানের ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। এছাড়া নুরুল আলম ৫৪ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় খেলেন ৫৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। আবু বকর ৪৩ বলে ৪টি চারের সাহায্যে করেন ৩৭ রান।
হোয়াইট মোহামেডানের বোলারদের মধ্যে সানি ৫ ওভারে ৩৪ রানে ৩টি এবং মারজান ৪ ওভারে ৩০ রানে ২টি উইকেট লাভ করেন। এছাড়া হাবিব, ওমর ও জীবরান ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অনিবার্ণের বোলারদের তোপের মুখে পড়ে হোয়াইট মোহামেডানের ব্যাটিং লাইনআপ। অনিবার্ণের বোলার জয় একাই ধসিয়ে দেন প্রতিপক্ষের ইনিংস। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন ফাহাদ। মাত্র ৫৫ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় মোহামেডান। দলের পক্ষে মারজান ৩৩ বলে ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন। বাকি ব্যাটারদের কেউই দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পারেননি। অতিরিক্ত খাত থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৭ রান। শেষ পর্যন্ত ২৪.২ ওভারে মাত্র ৮৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় হোয়াইট মোহামেডান।
অনিবার্ণ ক্রীড়া চক্রের পক্ষে জয় ৯.২ ওভার বল করে ৪৫ রান দিয়ে একাই শিকার করেন ৫টি উইকেট। ফাহাদ ৫ ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট। এছাড়া কামিল, নাবিল ও আরিয়ান ১টি করে উইকেট নেন। বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শনের জন্য অনিবার্ণ ক্রীড়া চক্রের জয় ম্যাচসেরা (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত হন।
ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন রবিন চৌধুরী ও সাদিকুর রহমান সাদি। স্কোরার হিসেবে ছিলেন এইচ ইউ দীপু এবং অনলাইন স্কোরারের দায়িত্বে ছিলেন তানজীল শাহরিয়ার। প্রথম বিভাগ ক্রিকেট কমিটির তত্ত্বাবধানে লিগের পরবর্তী খেলাগুলোও একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
