বিশ্বনাথে প্রশাসনের নীরবতায় ফসলি জমির মাটি কাটার ‘মহোৎসব’
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় প্রশাসনের তদারকিহীনতার সুযোগে অবাধে চলছে কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কাটার ‘মহোৎসব’। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি বিক্রির হিড়িক পড়লেও স্থানীয় প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়ছে।
সরেজমিনে উপজেলার রামপাশা ইউনিয়নের করই আইল হাওরে গিয়ে দেখা যায়, গত ৫-৬ দিন ধরে দিনরাত সমানতালে ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে আবাদি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। বড় বড় ট্রাকে করে এই মাটি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন ইটভাটায় ও ভরাট কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবৈধ মাটি কাটা চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন কাদিপুর গ্রামের রফিক আলীর ছেলে রশিদ আলী। তিনি কৃষকদের মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে ফসলি জমিকে গভীর পুকুরে পরিণত করছেন।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ বা ‘টপ সয়েল’ কেটে নিলে ওই জমিতে কয়েক বছর আর কোনো ফলন হয় না। এছাড়া অতিরিক্ত মাটি বোঝাই ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ পাকা রাস্তাগুলো ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রকাশ্যে এভাবে আবাদি জমি ধ্বংস করা হলেও প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই। প্রভাবশালী এই চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলতে বা বাধা দিতে সাহস পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় দিন দিন এই প্রবণতা বাড়ছে।
পরিবেশ ও কৃষি রক্ষা করার স্বার্থে প্রশাসন দ্রুত অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ করবে—এমনটাই দাবি বিশ্বনাথের সচেতন মহলের। অন্যথায় উপজেলায় আবাদি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়ে খাদ্য নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
