সিলেটে ৩৯৬ রানের রেকর্ড ব্যবধানে জিমখানার জয়
শৈত্যপ্রবাহের তীব্র ঠান্ডায় যখন সিলেটের জনজীবন বিপর্যস্ত, তখন মাঠের ২২ গজে উত্তাপ ছড়াচ্ছে স্থানীয় ক্রিকেট। সিলেটে চলমান বিপিএলের ডামাডোলের মধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) জিমখানা ক্লাব ও ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের ম্যাচে রচিত হলো এক নতুন মহাকাব্য। সিলেটের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪শ রানের গণ্ডি পেরিয়ে ৪৫৭ রানের পাহাড়সম পুঁজি গড়ে ইতিহাস গড়েছে জিমখানা ক্লাব। প্রতিপক্ষ ওয়ান্ডারার্স ক্লাবকে ৩৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে এক স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা।
সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এবং পেনহিল লজিস্টিকস-এর পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই লিগের চতুর্থ ম্যাচে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। ঘন কুয়াশার কারণে খেলা নির্ধারিত সময়ের ৩০ মিনিট দেরিতে শুরু হওয়ায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমিয়ে ৪৭ ওভার নির্ধারণ করা হয়।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই তাণ্ডব চালায় জিমখানার ব্যাটাররা। ওপেনার সায়েম মাত্র ৩১ বলে ৯টি ছক্কা ও ৭টি চারের সাহায্যে ৯২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। জিমখানা ১০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে মাত্র ৬ ওভারের মধ্যেই। এরপর মিডল অর্ডারে রিয়াদ খান ৮৬ বলে ৪টি ছক্কা ও ১৩টি চারের সাহায্যে অপরাজিত ১৩২ রানের অনবদ্য এক সেঞ্চুরি উপহার দেন। এছাড়া গালিব ৬৬ বলে ৮৮ রান এবং সাদী ৬৩ রান করলে নির্ধারিত ৪৭ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৫৭ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় জিমখানা। এটি সিলেটের যে কোনো পর্যায়ের ক্রিকেটে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড। এর আগে চলতি লিগের প্রথম ম্যাচে সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল ৩৮৩ রান।
ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পক্ষে বাপ্পী ও ফাহিম ২টি করে এবং অজিত ১টি উইকেট লাভ করেন।
৪৫৮ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিমখানার বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ওয়ান্ডারার্স ক্লাব। জিমখানার বোলার রাহিনের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ। রাহিন ৭ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। ২৫.৩ ওভারে মাত্র ৬১ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়ান্ডারার্স। দলের পক্ষে অভিষেক ১৪ ও নজরুল ১০ রান করতে সক্ষম হন। জিমখানার পক্ষে গালিব ও সজীব ২টি করে এবং কামরুল ১টি উইকেট নেন।
ম্যাচজয়ী সেঞ্চুরির সুবাদে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন জিমখানার রিয়াদ খান। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে প্রাইজমানি ও পুরস্কার তুলে দেন সাবেক ক্রিকেটার হরিদাস সিংহ। আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন রবিন চৌধুরী ও সাদিকুর রহমান সাকি।
