ফেঞ্চুগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: ভস্মীভূত অর্ধকোটি টাকার সম্পদ
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার মাইজগাঁও গ্রামের ব্যবসায়ী লাল মিয়া ও কাজল মিয়ার বসতবাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তেই আগুন ভয়াবহ রূপ ধারণ করে এবং পুরো বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনে প্রায় অর্ধকোটি টাকারও বেশি সম্পদ ভস্মীভূত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সবাই ঘুমিয়ে থাকার সময় হঠাৎ করে বাড়ির একটি কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। পরে আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে পানি ও বালতি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে লাল মিয়া ও কাজল মিয়ার বসতবাড়িটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দেরিতে হলেও গাড়ি নিয়ে এসেছেন ঠিকই, তবে গাড়িতে পানি মজুদ না থাকায় পুকুরে পাইপ লাগিয়ে পানি মারতে হয় তাদের। এ সময়ের মধ্যেই সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এছাড়া খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আগুনে মূল্যবান আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ব্যবসায়ী লাল মিয়া জানান, "আমার সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতা এমন ছিল যে পরনের কাপড় ব্যতীত কোনো কিছু রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এমনকি দেয়াল পুড়ে ফেটে গেছে। এ ঘটনায় প্রায় অর্ধকোটি টাকারও উপরে ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জমানো সম্পদ এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে।"
আগুন নেভাতে আসা উপজেলার রাজনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সৈয়দ জেবুল আহমেদ আক্ষেপ করে জানান, "কি যুগ আইলো- কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলেই লাইভ পার্টি পাগল হয়ে যান, আর আরেক শ্রেণির মানুষ আসেন লাইভে বক্তব্য দেওয়ার জন্য বাবু সেজে। উদ্ধার কাজে এরা এগিয়ে এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও কম হতো। চোখের সামনে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেল, ছাই হয়ে গেল তাদের জীবনের সাজানো সংসার। যা সত্যি দুঃখজনক।" তিনি এই অসহায় পরিবারের পাশে সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ফেঞ্চুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদ হাসান শুভ জানান, ঘরের দেয়াল ব্যতীত সবই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতির পরিমাণ ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা হতে পারে। তবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা রান্নাঘরের সিলিন্ডার থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তিনি আরও জানান, খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসেছেন তারা, কিন্তু রাস্তা সরু থাকায় পানিভর্তি গাড়ি সেখানে ঢোকানো সম্ভব হয়নি।
এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
