আবাসিক হলে স্যানেটারি ন্যাপকিন ভ্যান্ডিং মেশিন স্থাপনসহ ১৬ দাবি শাবি ছাত্রীদের
ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতে স্যানেটারি ন্যাপকিন ভ্যান্ডিং মেশিন স্থাপনসহ ১৬ দফা দাবি জানিয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের সংগঠন ‘স্বরূপ ইসলামিক কালচারাল অর্গানাইজেশন’র নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপিতে এ দাবিসমূহ উত্থাপন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীকে এ স্মারকলিপি দেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
এসময় সংগঠনটির সভানেত্রী আমিনা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল সুমাইয়া মাফি ও সুমাইয়া নাভা সহ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির দাবিসমূহ হলো- ১. প্রতিটি বিল্ডিংয়ে মেয়েদের জন্য নামাজরুম স্থাপন করতে হবে। ২. প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে একটি করে কমনরুম স্থাপন করতে হবে এবং পাশাপাশি সেখানে একটি করে পানির ফিল্টার স্থাপন করতে হবে। ৩. যেসকল ছাত্রীরা পর্দা করেন তাদের জন্য ক্যাফেটেরিয়ায় বসে খাবার খাওয়া অসুবিধাজনক। ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রক্ষার্থে মেয়েদের জন্য ক্যাফেটেরিয়ায় আলাদা রুমের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. নারী শিক্ষার্থীদের পরিবহনে যাতায়াতের সুবিধার্থে নতুন দ্বি-তল বাসের নিচের সিটসমূহ নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে এবং আলাদা করে আরো ৪টি বাস শুধুমাত্র নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ করতে হবে। ৫. যৌন হয়রানিমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে, অভিযোগ আসা মাত্র সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পূর্বে উত্থাপিত অমিমাংসিত অভিযোগসমূহও সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক নিষ্পত্তি করতে হবে। ৬. নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করার জন্য পুরো ক্যাম্পাসেজুড়ে পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসিটিভির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে ক্যাম্পাসে যেকোনো প্রকার অপকর্ম করার পথ রুদ্ধ হয়। বিশেষ করে লেডিস হলসমূহের যাতায়াতের রাস্তাগুলোতে পর্যাপ্ত লাইটিং ও সিসিটিভি এর ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে হবে। ৭. ক্যাম্পাসের এরিয়াকে ফ্রি-স্মোকিং জোন ঘোষণা করতে হবে। ৮. হল সমূহের রিডিং রুমের ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং গণরুম ব্যবস্থা বিলুপ্ত করতে হবে। মানসম্মত নাস্তা ও খাবারের সুব্যবস্থা করতে হবে। ৯. সাব-হলসমূহে (সামাদ ও আমীর কমপ্লেক্স) পানি ও বিদ্যুৎ সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে হবে। ১০. আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের এডমিট কার্ডে ছবি প্রকাশ করা হয়, যা ওই ডিপার্টমেন্টের যে কোনো শিক্ষার্থী দেখার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এটি বিশেষ করে একজন নারীর ক্ষেত্রে তার ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার স্বাধীনতার লঙ্ঘন। তাই এডমিট কার্ডে ছবি প্রকাশ না করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পূর্বের নির্দেশনা অনুযায়ী ভেরিফিকেশনের জন্য ফিংগারপ্রিন্টিং ব্যবস্থা এখনো কার্যকর হয়নি; এটি দ্রুত প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে কার্যকর করতে হবে। ১১. এখনো অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছ থেকে পোশাকের জন্য বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন; বিশেষ করে পরীক্ষার খাতায় মার্কিং, ভাইভা, প্রেজেন্টেশন ও সেমিনারে। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাদের মূল্যায়নে নাম্বার কম দেওয়া হচ্ছে। এজন্য পরীক্ষার খাতায় কোডিং সিস্টেম প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে দ্রুত চালু করতে হবে। ১২. নারী শিক্ষার্থীদের মাতৃত্বকালীন সময়ে তাদের এটেন্ডেন্সে বিশেষ কনসিডারেশন প্রদান করতে হবে এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তাদের একাডেমিক সেমিস্টার ড্রপ না হয়। ১৩. মা শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিল্ডিংভিত্তিক ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার স্থাপন করতে হবে। মা শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসে তাদের পাঠদান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে পারেন, সেজন্য তাদের বাচ্চাদের সুরক্ষার জন্য ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৪. মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা এবং ওষুধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবার সুরক্ষার্থে হলগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রতিটি বিল্ডিংভিত্তিক একটি করে স্যানেটারি ন্যাপকিন ভ্যান্ডিং মেশিন স্থাপন করতে হবে। ১৫. লাইব্রেরির সেবা আধুনিকায়ন করতে হবে। লাইব্রেরিতে বই নিয়ে পড়ার ব্যবস্থা এখনো নেই; এই সমস্যা সমাধান করতে হবে। ১৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন সেবা আরও দ্রুত ও আধুনিক মান নিশ্চিত করতে হবে।

