বারবার শাহবাগ ব্লকেড, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি
রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাহবাগ মোড়। এই মোড়ের চারপাশে রয়েছে শাহবাগ জাদুঘর, বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল) সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এর পাশেই অবস্থিত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক)। এসব কারণে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াত করেন এই পথে। মঙ্গলবারের (২৬ আগস্ট) প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও অনুষদগুলোর ব্লকেড কর্মসূচিও এর ব্যতিক্রম ছিল না।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও ব্লকেডের মুখে পড়ে অন্য পথে ঘুরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ যাওয়ার চেষ্টা করছেন, কেউ আবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তর্কে জড়াচ্ছেন। দুই পক্ষ থেকেই আসছে নানা যুক্তি-বিশ্লেষণ। ভোগান্তির শিকার মানুষ জানাচ্ছেন তাঁদের করুণ অবস্থার কথা। শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথেই ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
দুর্ভোগের বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ডজনখানেক মানুষের। এ সময় তাঁরা ব্লকেডের সময়কার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
অফিস ফেরত কর্মকর্তা মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘দুই দিন পরপর কোনো না কোনো আন্দোলন হয় এই রাস্তায়। অফিস থেকে ফেরার পথেও শান্তিতে যেতে পারি না। আন্দোলন হলেই ক্লান্ত শরীরে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরতে হয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আইনজীবী বলেন, ‘দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হতেই পারে, তবে সেটা নির্দিষ্ট জায়গায়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা অফিস ঘেরাও করা যেতে পারে। কিন্তু এভাবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবরোধ করে মানুষের ভোগান্তি বাড়ানোর কোনো মানে হয় না।’
এ সময় সুপ্রিম কোর্টের স্টিকার লাগানো মোটরসাইকেলের দুই আরোহীকেও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। তাঁরা বলেন, ‘আমরাও একসময় ছাত্র ছিলাম, আমরাও আন্দোলন করেছি। কিন্তু কখনো মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করিনি।’
উবারচালক মো. আজমাইন বলেন, ‘রাইড শেয়ার শেষ করে মোটরসাইকেলের তেল আনতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকায় তেলও নিতে পারছি না, বাসায়ও ফিরতে পারছি না। বিকল্প পথে যে ঘুরে যাব, সেই পরিমাণ তেল মোটরসাইকেলে নেই।
এক হালিম-ফুচকা বিক্রেতাকে আন্দোলনকারীদের অনুরোধ করতে দেখা যায়, ‘মামা, আমাকে যেতে দেন না, আমি এই পাশেই যাব।’ তবে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। তবু বারবার তিনি আন্দোলনকারীদের কাছে অনুরোধ করতে থাকেন। তবে এ সময় অসুস্থ রোগীবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সকে ছেড়ে দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান রোকনকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে এবং তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর শাহবাগে ব্লকেড ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বুয়েট, ব্র্যাক, বুটেক্সসহ প্রকৌশল অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীরা।

