ফেঞ্চুগঞ্জে দুই প্রধান শিক্ষককে শাসালেন ইউএনও
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক অবনতি হওয়ায় দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের তলব করে শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘কড়া ভাষায় শাসালেন’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টায় উপজেলা প্রশাসনের কনফারেন্স রুমে এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় উপজেলার এই দুটি বিদ্যালয়ের ফলাফল ছিল ৫০ ভাগের নীচে। উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি'তে ১৩২ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১টি জিপিএ-৫ সহ পাশ করেছে ৬৪ জন, পাশের হার ৪৮.৪৮% এবং পুরাণ বাজার পাবলিক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৩৮ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২টি জিপিএ-৫ সহ পাশ করেছে ৫৮ জন, পাশের হার ৪২.০৩%।
সভায় উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার সীমা সরকার, ফেঞ্চুগঞ্জ প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. দেলওয়ার হোসেন পাপ্পু, উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সোলেমান, পুরাণ বাজার পাবলিক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সকল সুযোগ সুবিধা থাকা স্বত্বেও কেন এমন ফলাফল হলো, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা চাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
তিনি আরও হুঁশিয়ার করে বলেন, পরবর্তী সময়ের জন্য কার্যকর একাডেমিক পরিকল্পনা দিতে হবে এবং তা বাস্তবায়নের প্রমাণ থাকতে হবে। যে কোন সিদ্ধান্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে অবহিত করতে হবে, কোন মনগড়া সিদ্ধান্ত বরদাস্ত করা হবেনা।
ভালো ফলাফলের জন্য ইতিমধ্যে পুরাণ বাজার পাবলিক মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ জন ও উত্তর কুশিয়ারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৪ জন খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে নেয়া বাড়ি ভাড়া হ্রাস করার কথাও জানিয়ে দেন ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এসব ফান্ড থেকে বেতন দেয়া হবে খন্ডকালীন শিক্ষকদের। বিদ্যালগুলোর শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য একজন সভাপতি হিসেবে বিধি মোতাবেক সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান ইউএনও মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।
সভায় উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্যে ব্যর্থতার বিভিন্ন কারণ তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে উন্নতির জন্য পদক্ষেপ নেওয়ারও আশ্বাস প্রধান করেন।
