অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন
সিলেটের শিল্পোন্নত উপজেলা ফেঞ্চুগঞ্জে অব্যবস্থাপনা বিরাজ করছে মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে। বিশ্রামাগার বসার ভালো ব্যবস্থা নেই, পাশাপাশি পানির পাম্প বিকল হওয়ায় শৌচাগারে নেই পানি, এমন অব্যবস্থাপানায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী সাধারণদের। স্টেশনের প্লাটফর্ম পরিচ্ছন্ন থাকলেও নোংরা অবস্থায় পড়ে আছে শৌচাগার।
বিশেষ করে মহিলা যাত্রীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। এছাড়া টিকেট কাউন্টারে বাড়িতে টাকা দিয়ে টিকেট কেনার অভিযোগ রয়েছে যাত্রীদের। শাহজালাল সারকারখানার সার পরিবহনসহ বিপুল পরিমাণ আয় রয়েছে মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে।
সরেজমিন আমাদের এ প্রতিবেদক আজ সকাল ১১টায় পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনে চট্টগ্রাম যাওয়ার জন্য মাইজগাঁও স্টেশনে আসেন। প্রায় ৩ ঘন্টা ১০ মিনিট বিলম্বে ট্রেনটি মাইজগাঁও স্টেশনে পৌঁছায়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখেন যাত্রীদের এমন দুর্ভোগ। শৌচাগারে পানি না থাকা এবং নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকা শৌচাগার নিয়ে হাসান নামে একজন যাত্রী তার বোনকে নিয়ে পড়েন বিড়ম্বনায়। স্থানীয় স্টেশন মাস্টারের সাথে উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায় ওই যাত্রীকে। স্টেশন মাস্টার কোন সদুত্তর দিতে পারছেননা ওই যাত্রীকে।
এ সময় অপর এক প্রবাসী যাত্রী সবুর খান জানান, একদিকে নেই বসার স্থান আর অপরদিকে শৌচাগারের এমন বেহাল অবস্থায় প্রায় তিন ঘন্টা প্লাটফর্মে হাঁটাচলা করে কাটাতে হলো, যা কষ্টকর।
এ সময় স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ আমাদের এই প্রতিবেদককে জানান, গত ২৯ জানুয়ারী থেকে পানির পাম্প বিকল হয়ে যায় এবং খবর পেয়ে পাম্প খুলেও নেয়া হয়েছে, মেরামতের অপেক্ষায় আছি।
যাত্রীদের বসার সোফাসহ স্টেশনের নানা সমস্যা নিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি লেখা হয়েছে। স্টেশন মাস্টার আরো জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রেললাইনের উপর ময়লা আবর্জনা ফেলে যাচ্ছেন। নিষেধ করা স্বত্বেও তারা মানছেননা।
টিকেট কাউন্টারে দায়িত্বে থাকা নাহিদ জানান, টিকেটে বাড়তি টাকা নেয়ার কোন সুযোগ নেই। অনলাইনে অটিপি কোড ব্যবহারে টিকেট ইস্যু করতে হয়। যতক্ষণ টিকেট থাকে ততক্ষণ কাউন্টার থেকে টিকেট দেয়া হয়। টিকেট না থাকলে বাড়তি টাকা নিয়ে আমরা কিভাবে টিকেট দিব।
