অপকর্ম ঢাকতে নিজেই করলেন মানববন্ধন
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে জোর করে যুবরাজ দাস নামের এক ইজারাদারের বিল দখলের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও ওই যুবদল নেতার নেতৃত্বে তার বাহিনীর হুমকির ভয়ে ইজারাদার যুবরাজ দাস বর্তমানে বাড়ি ছাড়া রয়েছে। এবং তার পরিবার ভয়, শঙ্কা আর আতঙ্কের ভেতর মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। তাছাড়া ওই যুবদল নেতার অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে তার নিজের বাহিনী দিয়ে জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে ঘটনা ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এছাড়াও তাকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগী যুবরাজ দাস থানায় অভিযোগ করেও কোনো বিচার পাননি বলে দাবি করে তিনি বলেন, গত রবিবার তিনি একটি অভিযোগ থানায় দায়ের করতে গেলে জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা কোর্টে যেতে বলেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত যুগলচরন দাসের ছেলে যুবরাজ দাস গোপালপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। তিনি পেশাগত ভাবে একজন প্রকৃত মৎস্যজীবি হিসেবে জীবন জীবিকা নির্বাহ করছেন। গত ১৪২৬ বাংলা থেকে ১৪৩১ বাংলা সন পর্যন্ত শালমারা জলমহালটি ইজারা নেন তার সমিতি। গত ৫ বছর ঠিকমতো বিল শাসন ও মাছ আহরণ করতে পারলেও এবছর পাল্টে যায় পুরো চিত্র। হঠাৎ করেই গত কয়েকমাস যাবত জামালগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ও সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো মাসুক মিয়ার নেতৃত্বে কিছু লোকজন বিলের মালিক হিসেবে যুবরাজ দাসকে হুমকি ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এতে করে যুবরাজ স্থানীয় ভাবে সুরাহা করতে চাইলে হস্তক্ষেপকারীদের উপর চড়াও হয় সংঘবদ্ধ গ্রুপটি। এই অবস্থায় গত ৫ আগষ্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরকার পতনের পর জলমহালটি তার দখলে নেয়ার জন্য চেয়ারম্যান মাসুক তার বাহিনী নিয়ে মাথা চড়া দিয়ে উঠেন।
ইজারাদার যুবরাজ দাস বলেন, বিলে মাছের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে প্রায় ১০ লাখ টাকার বাঁশ কাটা ফেলা হয়েছিল গত মাস কয়েক আগে। দুজন পাহারাদারও নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। হঠাৎ করে গত প্রায় ৩ মাস পূর্বে থেকে মাসুক মিয়া নিকটাত্মীয় ও তার নির্দেশে শেরমস্তপুর গ্রামের নয়মুল্লাহর ছেলে ফারুক মিয়া তার ভাই ফরুক মিয়া, মৃত মাহমুদ আলীর ছেলে কামরুল ইসলাম এবং চাঁনপুর গ্রামের মৃত উমরচান বিশ্বাসের ছেলে নিতাই বিশ্বাস ও তার ছেলে বিপ্লব বিশ্বাসসহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন জলমহালটি তাদের দাবি করছে। এ নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের এক পর্যায়ে উল্লেখিত লোকজন ইজারাদারদের খারাপ ভাষায় গালাগালি করে। এতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে চাইলে তাদেরকেও গালমন্দ করে। তাছাড়া একাধিক দিন বিল থেকে মাছ আহরণ করেন। সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর বিবাদীরা সন্ধ্যার দিকে দলবল নিয়ে বিলে নেমে আনুমানিক প্রায় ৪ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই মাসুক চেয়ারম্যানের দখলে চলে যায় জলমহালটি। বাঁধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় এবং ঘটনাস্থলে বেধড়ক মেরে নীলা ফুলা জখম করেছে। আমি প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে কোনো রকম সেখান থেকে বেঁচে ফিরে এসেছি। এছাড়াও এনিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমাকে হত্যা করে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।
এব্যাপারে৷ অভিযুক্ত সাচনা বাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো মাসুক মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বলেন আমার গ্রামের লোকজন ও আত্মীয়সজন গিয়ে মাছ ধরে ছিল পরে আমি ও সাথে গিয়েছিলাম যেন কোন দূর্ঘটনা না ঘটে।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক স্বপনের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, দলের পদ পদবী ও নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব করেন। এটার দায়ভার যুবদল বা বিএনপি বহন করবে না।
এব্যাপারে জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস জানান, এব্যাপারে থানায় একটি অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। যেহেতু এটি ভূমি সংক্রান্ত তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের কাছে তাদেরকে যেতে বলা হয়েছে।
