শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পদ ছাড়লেন দুই অধ্যক্ষ, পালালেন প্রধানশিক্ষক
সিলেটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনেরমুখে পদত্যাগ করেছেন দুই কলেজের অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীদের তোপেরমুখে দৌড়ে পালিয়েছেন আরেক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। রোববার সিলেট নগরী ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজ ও কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং গোলাপগঞ্জের ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
পদত্যাগকারীরা হলেন ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হুসনেআরা বেগম ও ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এরশাদ আলী। শিক্ষার্থীদের তোপেরমুখে স্কুল ছেড়ে পালানো শিক্ষকের নাম গৌরা ঘোষ। তিনি কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক।
জানা যায়, কয়েক দিন ধরে ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা আন্দোলন করে আসছেন।রোববার সকাল থেকে তার প্রকট আকার ধারন করে। সকাল থেকেই ছাত্র-ছাত্রীরা অধ্যক্ষকে তাঁর কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে দুপুর ১২টার দিকে বাধ্য হয়ে হুসনেআরা বেগম অধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি নেন।
এদিকে, ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে ব্লু-বার্ড স্কুল এন্ড কলেজের অংকের শিক্ষক দীপক চৌধুরী বুলবুল ক্যাম্পাস থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে যান। এসময় কিছু শিক্ষার্থী মারমুখি হলে অন্য ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে আগলে রিকশায় তুলে দেন।
শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অধ্যক্ষ হুসনেআরা বেগম ও শিক্ষক দীপক চৌধুরী বুলবুল আওয়ামী লীগ-পন্থী এবং তারা নানা অনৈয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাই পরিস্থিতি বদলে যাওয়া এখন আর তারা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকতে পারবেন না।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে কয়েকদিন ধরে ছাত্র আন্দোলন চলছিল ঢাকাদক্ষিণ সরকারি কলেজেও। রোববার সকালে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পদত্যাগ করেন ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এরশাদ আলী।।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, ১ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এরশাদ আলী কলেজে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সভা করেছেন।
এ ছাড়াও অধ্যক্ষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে পোস্ট করেন বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন৷ এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষ এরশাদ আলীর পদত্যাগ দাবি করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করে কলেজ ত্যাগ করেন।
অধ্যক্ষ এরশাদ আলী ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
পদত্যাগের বিষয় নিশ্চিত করেছেন কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুর রহীম। তিনি বলেন, আমরা সব শিক্ষক অধ্যক্ষকে সভা করতে নিষেধ করেছিলাম তিনি আমাদের কারো কথা না শুনে উনার খেয়াল খুশিমতো আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এই সভা করেছিলেন।
সিলেট নগরীর নয়াসড়কস্থ কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রীরা। রোববার (২৫ আগস্ট) ছাত্রীদের আন্দোলন তুমুল হয় এবং তাদের তোপের মুখে পড়ে একপর্যায়ে অফিস থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষ।
পরে স্থানীয় কাউন্সিলর, ছাত্রীদের অভিভাবক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বসে মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় নিয়েছেন। মঙ্গলবারের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা যায়, রোববার সকাল থেকেই কিশোরী মোহন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অপসরাণসহ বিভিন্ন দাবিতে ছাত্রীদের তুমুল আন্দোলন শুরু হয়। তারা মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ ঘেরাও করে বিভিন্ন স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে তোপের মুখে প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষ তার কার্যালয় ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধান শিক্ষক গৌরা ঘোষ আডি কার্ড ও ডায়রি নিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করছেন। এছাড়া ২০১৯ সালে এক ছাত্রীর সাথে অশালীন আচরণের কারণে ওই ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এতে এলাকাবাসী ক্ষীপ্ত হয়ে তাকে মারার প্রস্তুতি নিলে শালীসের মাধ্যমে ১ লক্ষ টাকায় জরিমা করে মিমাংসা করা হয়। কিন্তু তিনি জরিমানার টাকা নিজ তহবিল থেকে না দিয়ে বিদ্যালয়ের তহবিল হতে পরিশোধ করেন। তিনি তার অনুগত শিক্ষকদের নিয়ে বিদ্যালয়ে আয়নাঘর নামে পরিচিত একটি কক্ষে ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডা দেন। প্রধান শিক্ষকের দুর্ব্যবহার, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষক নিয়ম বহির্ভুত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন দিয়ে তার অনুগত সভাপতি নিয়োগ করে ভাউচার বাণিজ্য করেন। এতে বিদ্যালয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক পরিমাণ অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে ২০১৯ সালে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করার পরও প্রধান শিক্ষক অর্থের বিনিময় সঠিক তদন্ত করতে দেননি। এসব কারণে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।

