হাটে বেচাকেনা শুরু, আশাবাদী গরু ব্যবসায়ীরা
আগামী ১৭ জুন সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আযহা পালিত হবে। এই ঈদকে কেন্দ্র করে সিলেট ৫২টি পশুরহাট বসেছে। তাইতো আগেভাগেই কোরবানির পশু কিনে রাখেন অনেকেই। সিলেটের কোরবানির গুরুর সর্ববৃহৎ হাটগুলোর অন্যতম কাজির বাজার গরুর হাট। প্রতিবছরের মতো এবারও হাটটিতে গরু নিয়ে এসেছেন দেশের নানা প্রান্তের খামারি ও গরুর ব্যাপারীরা। বেশ কয়েকদিন আগেই হাট শুরু হলেও ক্রেতা সংকটে ভুগছিলেন বিক্রেতারা। তবে ঈদের তিন দিন আগে সপ্তাহিক ছুটির দিনে ক্রেতা বাড়ায় হাসি ফুটেছে গরুর মালিকদের মুখে। জুমার পরপরই ক্রেতা বাড়ছে কাজির বাজার গরুর হাটে।
শুক্রবার (১৪ জুন) জুমার নামাজের পর সরজমিনে কাজির বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা যায়।
ঈদের আগে সর্বশেষ সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় এদিন সকাল থেকে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন হাট সংশ্লিষ্টরা। জুমার নামাজের পরপর ক্রেতাদের আনাগোনা আরও বাড়তে দেখা যায়। নির্ধারিত মাঠ ও আশেপাশের সড়কে থাকা গরু দেখে দামাদামি করতেও দেখা যায় ক্রেতাদের। তাদের উপস্থিতিতে হাট প্রাণ পাওয়ার পাশাপাশি বিক্রেতাদেরও খুশি দেখা যায়।
ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে আসা নুরুল ইসলাম বলেন, আমি মোট ১০টি গরু নিয়ে এসেছি। এখন পর্যন্ত একটাও বিক্রি হয়নি। এই কদিন দুই-একজন ক্রেতা এসেছেন, তবে তারা দামাদামি করে চলে গেছেন। বেশিরভাগই দাম যাচাই করতে এসেছিলেন। ঈদের এখনও তিনদিন বাকি। আশা করি বিকেল থেকে হাট জমজমাট হবে। সকাল থেকেই ক্রেতা বেড়েছে। জুমার পর থেকে আরও বাড়ছে।
বিশ্বনাথ থেকে আসা করিম মিয়া জানান, তিনি মোট ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে চারটি বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, এই ক'দিন তেমন ক্রেতা ছিল না। গতকাল সন্ধ্যায় মোটামুটি ছিল, তবে সিলেটে গত কয়দিন আগে বন্যা ছিলো ও দিনব্যাপী নগরীতে বৃষ্টি হওয়ার কারণে রাতে আর জমেনি। আজ যেহেতু শুক্রবার ছুটির দিন। আবার ঈদের ছুটিও শুরু হয়েছে আশা করি ক্রেতা বাড়বে। আজ সকাল থেকে বেশ কয়েকটা গরু দামদামি হয়েছে। এখনও দুইটা গরুর দামাদামি চলছে।
করিম মিয়ার দুইটা গরু দাম করা নিকেতনের নিজাম উদ্দিন বলেন বলেন, গতকাল একবার এসেছিলাম। তবে বৃষ্টির কারণে কিনতে পারি নি। আজ আবার এসেছি। ছোট সাইজের দুইটা গরু পছন্দ হয়েছে। তবে উনি (গরুর মালিক) দুই লাখ এর উপর দাম চাচ্ছে। আমরা এক লাখ ৪৫ পর্যন্ত বলেছি।
গত বছরের তুলনায় এখনও বাজার কিছুটা চড়া বলে দাবি এই ক্রেতার।
নগরীর সুবিদবাজার থেকে আসা শাহরিয়ার বলেন, গত বছরের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। গরু দেখছি, দামে মিললে কিনে নেব। নয়তো অন্য হাটে দেখব।
এদিকে ক্রেতা কিছুটা বাড়লেও বিক্রির সঠিক তথ্য দিতে পারেনি হাসিল ঘরের দায়িত্বরতরা। তারা জানান, গতকাল থেকে বেচাবিক্রি বেড়েছে। আজকে সকাল থেকে মোটামুটি ছিল, বিকেলের দিকে আরও বাড়বে বলে আশা করি। তবে ঠিক কয়টা গরু হাটে এসেছে বা বিক্রি হয়েছে তার পরিপূর্ণ তথ্য এই মূহুর্তে নেই। সন্ধ্যার পর বিক্রির তথ্যটা হয়তো দিতে পারব। তবে গরু বা ছাগলের সংখ্যাটা আনলোড অফিস বা ইজারাদার বলতে পারবে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে এবার সিলেটে ৫২টি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নগরীর স্থায়ী পশুর হাট কাজীরবাজার ছাড়াও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে ৮টি অস্থায়ী হাট। সব উপজেলা মিলে আরো ৪৩টি হাট অনুমোদন করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন।
নির্ধারিত স্থান ছাড়া অবৈধ পশুর হাট বসালে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষ।
গত কাল বৃহস্পতিবার থেকে ৫ দিনের জন্য মহানগরের টুকেরবাজার (তেমুখী পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা), মাছিমপুর কয়েদির মাঠের খালি জায়গা, মেজরটিলা বাজার-সংলগ্ন খালি জায়গা, শাহপরাণ পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা, টিলাগড় পয়েন্ট সংলগ্ন খালি জায়গা, শাহী ঈদগাহস্থ খেলার মাঠের পেছনের অংশ, সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এস ফল্ট মাঠ ও দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানাধীন ট্রাক টার্মিনালে কুরবানির অস্থায়ী পশুর হাট গুলো বসেছে।
