আলোচনায় আ.লীগের ১৯ সৌভাগ্যবান
সিলেটের ১৯ আসনে শেখ হাসিনার গুড বুকে সৌভাগ্যবান কারা আছেন এ নিয়ে এখন গভীর চিন্তায় আছেন নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দলের ভেতরে-বাইরে মনোনয়ন ঘিরে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন কারা? এ নিয়ে ব্যাপক কৌতুহল দেখা দিয়েছে। সবার দৃষ্টি এখন এই ১৯ আসনের সৌভাগ্যবানদের দিকে।
সর্বোপরি সকলের দৃষ্টি এখন ঢাকায়। আজ-কালের মধ্যেই তাদের ভাগ্য নির্ধারণ হওয়ার কথা। যদিও দলের বাছাইকৃত প্রার্থীদের তালিকা রয়েছে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার টেবিলে। যে কারণে সিলেটের মন্ত্রী-এমপিসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউই মনোনয়ন প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারছেন না। এ কারণে তাদের কর্মী-সমর্থকরাও রয়েছেন ধোঁয়াশায়।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের তফসিল ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রির হিড়িক চলে। ইতিমধ্যে সিলেটের চার জেলায় দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের ১৭২ প্রার্থী। কিন্তু তাদের কার ভাগ্যে কি লেখা আছে, তা কেবল দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তের পর প্রকাশ হতে পারে রোববার। দিনটি কারো জন্য খুশির, আবার কারো জন্য হতাশার হয়ে ধরা দিতে পারে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যেনো ভাগ্য পরিক্ষার খেলায় কারা উত্তীর্ণ হচ্ছেন তা দেখার অপেক্ষায় এবার ক্ষণ গণনার পালা।
বর্তমান মন্ত্রী-এমপিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দলের মনোনয় কিনে জমা দিয়েছেন তৃণমূলের নেতারাও। তাদের মধ্যে নৌকার হাল ধরে আইন প্রণেতা হতে সংসদে যেতে চান তারা।
এবার সিলেট বিভাগের চার জেলায় ১৯ আসনের বিপরীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কিনেছেন সিলেট-১ (সিলেট সিটি এলাকা ও সদর উপজেলা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, আওয়ামী লীগের তিনবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন ও এস ডি মতিউর রহমান নানু মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গণফোরামের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোকাব্বির খান। এছাড়াও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরীসহ আরও ৭জন দলের মনোনয়ন কিনেছেন। অন্যরা হলেন-জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক জগলু চৌধুরী, বিশ্বনাথ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম নুনু মিয়া, বীরমুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড.অরুপ রতন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল গণি, আনছার আলী, মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, মো. নুরুল ইসলাম (নুর মিয়া)। এই আসনে সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরীকে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রাখছেন নেতাকর্মীরা।
সিলেট-৩ (দক্ষিণসুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএমএ’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, এডভোকেট মনির হোসাইন, জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শমসের জামাল, ড. মিসবাউর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু, হুমায়ূন আহমদ, মো. মতিউর রহমান, শামীম ইকবাল মনোনয়ন চেয়েছেন।
২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী (কয়েস চৌধুরী)। করোনায় তিনি মৃত্যু বরন করলে উপনির্বাচনে হাবিবুর রহমান হাবিব নৌকার প্রার্থী হন। তবে এবার আসনটি জাতীয় পার্টির সঙ্গে দরকষাকষি চলছে। এটির ফয়সালা না হলে ডা. দুলাল অথবা হাবিব যে কেউ মনোনয়ন পেতে পারেন।
সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে দলীয় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন আরও ৮ জন। এরমধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও গোয়াইনঘাট ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া হেলাল নৌকার প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম কিনে জমা দিয়েছেন।
তাদের মধ্যে পদত্যাগ না করেই মনোনয়ন কিনে জমা দিয়েছেন গোয়াইনঘাট সরকারি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ফজলুল হক। এছাড়া দুদকের দুর্ণীতি মামলার আসামি জৈন্তাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলীও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহফুজুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাপ মিয়া, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আলম রোমেন, অ্যাডভোকেট শাহজাহান চৌধুরী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এ আসনে নৌকার মনোনয়ন দৌড়ে প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মন্ত্রী ইমরানকেই বেছে নিতে পারেন শেখ হাসিনা।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে আগেই ঘোষণা দেন। এ আসনে মনোনয়ন চেয়েছেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. আহমদ আল কবীর, সুপ্রীম কোর্টের এডভোকেট মোশতাক আহমদ, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমদ,, তাসলিমা খানম, মো. খসরুজ জামান, সরওয়ার কবির। তবে আসনটি জাতীয় পার্টির সঙ্গে ভাগাভাগির তালিকায় রয়েছে। এখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন ও ড. আহমদ আল কবীর, যে কেউ দলের টিকিট পেতে পারেন।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে চ্যালেঞ্জ করে নৌকার টিকিট পেতে মনোনয়ন সংগ্রহ করে জমা দিয়েছেন দুই উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক পৌর মেয়র। তারা হলেন-সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুর কাদির চৌধুরী শাফি, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব ও গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জাকারিয়া আহমদ পাপলু। এছাড়া এই আসনে আরও দলীয় মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিয়েছেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন, সিলেট চেম্বারের সাবেক সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমদ, সিলেট মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুল ইউনুস জায়গীরদার, আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন, আফসার খান সাদেক, মোহাম্মদ আবুল কালাম চৌধুরী, জুলিয়ান চৌধুরী রাহী, সামছুল ইসলাম বাচ্চু, আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুজ্জামান, মো. মোদাব্বির হোসেন। এ আসনটি তৃণমূল বিএনপির সঙ্গে ভাগাভাগি হলে উন্মোক্ত রাখা হতে পারে। তবে দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ রয়েছেন শেখ হাসিনার গুডবুকে।
সুনামগঞ্জ-১ (জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর) আসনে বিভাগের মধ্যে সর্বাধিক ১৭ জনে দলীয় মনোনয়ন কিনে ফরম জমা দিয়েছেন।
এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ছাড়াও মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শামীমা আক্তার খানম, সরকারের সাবেক যুগ্ম সচিব বিনয় ভূষণ তালুকদার ভানু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট ড. খায়রুল কবির রুমেন, তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল, সুনামগঞ্জ জেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি মো. সেলিম আহমদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রঞ্জিত চন্দ্র, সরকার, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট গোলাম কিবরিয়া, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হায়দার চৌধুরী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আখতারুজ্জামান সেলিম, মো. মাহবুব খান, মো. রফিকুল ইসলাম তালুকদার, মো. নুরুল হাসান, শামীম আহমদ, ফখরুল ইসলাম চৌধুরী ও মোহাম্মদ সুয়েবুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের মহিলা সম্পাদিকা সুখাইর রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়াম্যাম নাসরিন সুলতানা দীপা। এ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন, বলে দলীয় সূত্র জানায়।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও প্রখ্যাত পার্লামেন্টারিয়ান প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সহধর্মিণী ড. জয়া সেন গুপ্তা, শাল্লা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী), সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এডভোকেট শামসুল ইসলাম, শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট অবনী মোহন দাস, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ব্যরিস্টার অনুকুল তালুকদার ডাল্টন, দিরাই উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রিপা সিনহা, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা হামিদুল কিবরিয়া চৌধুরী নৌকার মাঝি হতে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। অন্যরা হলেন-তানভীর তুলি, সামসুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য প্রদ্যোত কুমার তালুকদার, সুবীর নন্দী দাস, মো. আব্দুল মোমেন চৌধুরী। এই আসনে এবার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ (আল আমিন চৌধুরী) আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর এবং দক্ষিন সুনামগঞ্জ উপজেলা) আসনে মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য ও প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ আজাদের জেষ্ঠ পুত্র আজিজুস সামাদ আজাদ ডন, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট ড. খায়রুল কবীর রুমেন ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক। এখানে এম এ মান্নান ফের মনোনয়ন পাচ্ছেন, অনেকটা নিশ্চিত নেতাকর্মীরা।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর-বিশ্বম্ভরপুর)এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিট চেয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মতিউর রহমান ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট শামছুন্নাহার বেগম (শাহানা রাব্বানী)। এছাড়াও এ আসনে দুই সহোদর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হুদা মুকুট ও জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খায়রুল হুদা চপল, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা সম্পাদিক ও সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিগার সুলতানা কেয়াসহ আরো ৩ জন মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। আসনটিতে এবার নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। আসনটিতে এবার মূল্যায়িত হতে পারেন দলের জ্যেষ্ট নেতা মতিউর রহমান। পাশাপাশি ড. মোহাম্মদ সাদিকও আছেন আলোচনায়।
মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ি) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ও বন ও পরিবেশ মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার সঙ্গে দলের মনোনয়ন দৌড়ে আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন, সাবেক বড়লেখা উপজেলা চেয়ারম্যন মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, জুড়ি উপজেলা যুবলীগের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম, মো. মোদাব্বির হোসেন, ওলীলা গ্রুপের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান। তবে এই আসনটিতে পরিবর্তনের ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখছেন নেতাকর্মীরা।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আতাউর রহমান শামীম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেনু, যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামাল হাসান। এরমধ্যে নৌকা প্রতীক উঠতে পারে শফিউল আলম নাদেলের হাতে। যদি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে নৌকায় তোলা না হয়।
মৌলভীবাজার-৩ (রাজনগর-সদর) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য নেছার আহমদ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তার সঙ্গে আছেন সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসীনের স্ত্রী সৈয়দা জোহরা আলা উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ ফজলুর রহমান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাউর রহমান টিপু, মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কেন্দ্রীয় কমান্ডার আব্দুল আহাদ চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ্ব্দাুল মালিক তরফদার ভিপি শোয়েব, সিআইপি এমএ রহিম দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। এ আসনে সংসদ সদস্য নেছার আহমদকে ভরসা রাখতে পারে দল।
মৌলভীবাজার-৪ (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য অধ্যাপক রফিকুর রহমান, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সৈয়দ মনসুরুল হক, সাবেক পিপি ও কমলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি সুব্রত পুরকায়স্থ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা নবারুন দাস, মোহাম্মদ আকরাম খান মনোনয়ন জমা দেন। আসনটিতে উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদকেই রাখতে পারে দল।
হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে নৌকা প্রতীক চেয়ে দলীয় মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ গাজী (মিলাদ গাজী), আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা নাজরা চৌধুরী সাবেক সংরক্ষিত সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, মুকিত চৌধুরী, শেখ মো. মাজু মিয়া, জামাল হোসাইন। এই আসনটিতে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন নেতাকর্মীরা। আর পরিবর্তন হলে ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী হতে পারেন সেই ভাগ্যবান!
হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমীরিগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট আবদুল মজিদ খান, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ময়েজ উদ্দিন শরীফ, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি চৌধুরী আবু বকর সিদ্দিকী, বানিয়াচং উপজেলা চেয়ারম্যান জেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল কাশেম চৌধুরী, আজমীরিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. লুৎফুর রহমান তালুকদার, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাদিকুর রহমান পরাগ, বানিয়াচং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন মাস্টার ও মো. আবুল কালাম আজাদ মনোনয়ন জমা দেন। এই আসনে নতুনরা বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাই রয়েছে, এমনটি দলীয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. আবু জাহির, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাছিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম মোল্লা মাসুম (ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়), ছাত্রলীগের সাবেক নেতা প্রকৌশলী সুশান্ত দাস গুপ্ত (জজ’র মামলায় পলাতক) মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন। হবিগঞ্জ-২ আসনের ন্যায় এই আসনটিতেও নতুনরা বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, মনে করছেন নেতাকর্মীরা।
হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনে মনোনয়ন চেয়ে ফরম জমা দিয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট মো. মাহবুব আলী, যুবলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, সাবেক সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী মোস্তফা শহীদের ছেলে নিজামুল হক রানা, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাধবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন জিতু, মাধবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম মুসলিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক প্রবাসী শেখ মোহাম্মদ মিছির আলী, আওয়ামী লীগ নেতা আরিফুল হাই রাজীব, এসএম ইসলাম মুনীর ও এম এম রিয়াজ। এখানে মো. মাহবুব আলীর সঙ্গে শক্ত প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। তাদের মধ্যে মাহবুব আলী মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন, যদিও স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছেন ব্যারিস্টার সুমন।
