প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর: ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা পেল নির্মাণ শ্রমিকরা
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও নন্দীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হলো। নওয়াগাঁও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০০টি ঘর নির্মাণে যেসব শ্রমিক রক্ত, ঘাম ঝরিয়ে সুন্দর পরিপাটি ঘরগুলো নির্মাণ করেছেন তাদের প্রতি অভিনন্দন ও ভালোবাসা জানাতে আয়োজন করা হয় এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে নির্মাণ শ্রমিকদের ফুল ও উপহার দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয় ও আপ্যায়ন করা হয়। তাদেরকে ধন্যবাদ জানান প্রশাসনের কর্মকর্তারা, সিলেটের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
সংবর্ধিত নির্মাণ শ্রমিক মুন্না বলেন, রাজমিস্ত্রীর কাজ করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ করতে পারায় আমি খুব খুশি। তিনি বলেন, ভ‚মিহীনদের জন্য আন্তরিকতার সাথে কাজ করেছি। তারা আজ আশ্রয় খুঁজে পেলেন। তার মতো বিভিন্ন ক্যাটাগরির আরো শতাধিক শ্রমিক এভাবেই তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এসময় আশ্রয় প্রকল্পটি এক মিলন মেলায় পরিণত হয়। সোমবার দুপুরে সিলেট জেলা প্রেসক্লাব ও সিলেট ইমজা এবং গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান।
এসময় গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি গোয়াইনঘাট। এখানে রয়েছে প্রকৃতির অনেক সৌন্দর্য্যরে নিদর্শন। রয়েছে শতাধিক পর্যটন স্পট। পুরো উপজেলাজুড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ আর একটু পরপর সবুজ ছায়াঢাকা গ্রাম। তিনি বলেন. “মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে দেশের সকল ভ‚মিহীন ও গৃহহীন অর্থাৎ ‘ক’ শ্রেণীর পরিবার পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোয়াইনঘাট উপজেলায় ইতোমধ্যে ৮৯৫টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে যার মধ্যে নোয়াগাও আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত হয়েছে ১০০টি ঘর। এছাড়াও বর্তমানে এ উপজেলায় আরোও ২০৬টি গৃহের নির্মাণ কাজ চলমান। তিনি জানান, ভ‚মিহীনদের শুধু ঘর দেওয়া নয় তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলতেও আমাদের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। উপহারের ঘরের পাশে মসজিদ-মন্দির নির্মাণের বিষয়টিও চিন্তায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ১০টি করে গাছ লাগানোর জন্য প্রতি পরিবারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এখানে সোলার পাম্পের মাধ্যমে বাঁতি জ্বলবে ও পানি সরবরাহ করা হবে। স্যাটালাইট স্কুলের ও ব্যবস্থা করা হবে। উপকারভোগীদের জীবিকা অন্বেষণেও পরিবর্তন আনার উপর আমাদের দৃষ্টি রয়েছে। এই এলাকায় একটি বড় স্টেডিয়ামের নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আশ্রয় প্রকল্পের বাসিন্দাদের সংগঠিত করে তাদের নিজেদের উন্নতির জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
উপহারের ঘর পাওয়া জয়নব বেগম সাংবাদিকদের জানান, স্বামী শাহীন মিয়া আর সন্তানদের নিয়ে নিজের বাড়ীর অভাবে ছিলেন অত্যন্ত কষ্ট ও দূর্ভোগের মাঝে। দীর্ঘদিন ধরে ভ‚মিহীন এই পরিবার মাথাগোঁজার একটি নীড়ের স্বপ্নে বিভোর ছিলেন। আজ তাদের মুখে স্বপ্ন জয়ের হাসি। আনন্দ আর তৃপ্তিতে তাদের চোখে-মুখে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা।
পাশাপাশি নিজের ঘরে থাকার গৌরব। জয়নব বেগম একটি পরিপাটি সুন্দর ঘর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের ঘর উপহার দিয়ে ছায়া দিয়েছেন। তাঁকেও যেন খোদা ভালো রাখেন দীর্ঘ জীবন দান করেন। এভাবে কথাগুলো বলেছেন গোয়াইনঘাটে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর উপহার পাওয়া নারী জয়নব বেগম। ইতোমধ্যে ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই ঘরগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
এক নজরে নওয়াগাওঁ আশ্রয়ণ প্রকল্পঃ মৌজা-লামাপাড়া, জে.এল নং- ১৬৬, খতিয়ান নং- ১, দাগ নং- ৪৭, ৪৯ ও ৫০ মোট জমির পরিমান ৫.৩৬ একর (দৈর্ঘ্য ৭৩০ ফুট, প্রস্থ ৩২০ ফুট), ভরাটকৃত জমির পরিমান ৩.২৫ একর (দৈর্ঘ্য ৬৩৫ ফুট, প্রস্থ ২২৫ ফুট) উক্ত জমির চতুর্পাশে খাল খনন পূর্বক জমি ভরাট করা হয়েছে। খননকৃত খালের দৈর্ঘ্য ১৪৫০ ফুট খালের পানিধারন ক্ষমতা, ৪.৮৮ মিলিয়ন গ্যালন প্রকল্পে নির্মিত গৃহ সংখ্যা ১০০টি (প্রতিটি গৃহে দুটি বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট রয়েছে) প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় ২ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা।
গভীর নলক‚প সংখ্যা ১০ টি। প্রতিটি গৃহে পৃথক মিটারসহ বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। প্রকল্পের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও ১টি স্কুল এন্ড কলেজ রয়েছে। প্রকল্পের ১.০০ কিঃমিঃ এর মধ্যে ১টি ৩তলা বিশিষ্ট বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র এবং একাধিক মসজিদ ও মন্দির রয়েছে।
উল্লেখ, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন একশতটি পরিবারের প্রত্যেকে পাবেন ২শতক জমিসহ ১টি ঘর। এই ঘরের উপকারভোগীর নামের তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তাদের কেউ কেউ এখনো থাকেন অন্যের জায়গায় ঘর তুলে। অনেকে আবার বসবাস করছেন খাস জমিতে। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর মাধ্যমে গৃহহীন ও ভুমিহীন পরিবারগুলো পাবে আপন ঠিকানা। নিজের জায়গায় নিজের ঘরের সামনে দাঁড়ানোর নতুন স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে তাদের মনে। এ প্রকল্পের কাছাকাছি স্থানে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ৩টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছিলো। ২০২১ এর জানুয়ারি মাসে সেই ঘরগুলো পরিদর্শনে আসেন সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদ।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন গোয়াইনঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন, গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাম, নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস কামরুল হাসান আমিরুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শীর্ষেন্দু পুরকায়স্থ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি শেখ নাসির, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি সাঈদ চৌধুরী টিপু, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, নির্বাহী সদস্য শাহীন আহমদ, রনজিৎ সিংহ, সিলেট ইমজার সভাপতি মাহবুবুর রহমান রিপন, সাধারণ সম্পাদক গুলজার আহমদ, সিলেট জেলা প্রেসক্লাব সদস্য দিপু সিদ্দিকী, আবুল মোহাম্মদ, দেবাশীষ দেবু, সুবর্ণা হামিদ, সময় টিভির সিলেট ব্যুরো প্রধান ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, দৈনিক জৈন্তাবার্তা’র নুরুল ইসলাম, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মতিন, সাবেক সভাপতি মনজুর আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. মিনহাজ উদ্দিন, বাংলাভিউর ক্যামেরাপার্সন আহমদ রুবেল প্রমুখ।
