জেলার শ্রেষ্ট ওসির বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বার বার অভিযোগে বিব্রতবোধ করছেন তারা। গত ৪ মাসে ওসির বিরুদ্ধে ৪টি অভিযোগ করা হয়েছে ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে। এসব অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছেন উর্ধ্বতন কর্মকর্তরা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার একটি অভিযোগের সাক্ষ্য দেন উপজেলার মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. রায়হানসহ ২ জন।
এর আগে গত সপ্তাহে অন্য অভিযোগে একাধিক ব্যাক্তির সাক্ষ্য নেন তদন্ত কর্মকর্তা। অথচ জেলার শ্রেষ্ট অফিসার ছাড়াও সম্প্রতি আইজিপি ব্যাজ পাওয়া ওসি মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে উঠেছে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে স্কুল শিক্ষক ও তার সন্তানদের হয়রানি, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধার দোকান থেকে চিনি উদ্ধার করে ভারতীয় বলে চালানো, একজন নারীর ধর্ষণের অভিযোগ ৫ মাস পর গ্রহণ। আরেক প্রবাসীর বাড়ির জায়গা দখলের পরও পাল্টা মামলা নিয়ে হয়রানীর অভিযোগ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবু সুফিয়ান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন (জকিগঞ্জ-বিয়ানীবাজার সার্কেল) পৃথক অভিযোগের তদন্ত করছেন।
জানা গেছে, গত ২০ আগষ্ট চাদাবাজি, মারধর ও চুরির অভিযোগে মামলা (নং-১১(৮)২২) করা হয় বিয়াবাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফয়জুর রহমান ওরফে আনোয়ার মাস্টার, তার তিন সন্তান ও এক বর্গাচাষির বিরুদ্ধে। ২৮ আগষ্ট পুলিশ সুপার বরাবর মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগ করেন আনোয়ার মাস্টারের স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন। পরে ২২ ডিসেম্বর ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবার আবেদন করেন। আবেদনে ওসির বিরুদ্ধে বিবাদীর পক্ষাবলম্বনও ঘুষগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। আবেদনের প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান ২৫ জানুয়ারি ৪ জনের ও ১৬ জানুয়ারি আরও ৪ জনের সাক্ষ্য নেন।
২ এপ্রিল উপজেলার কালিগঞ্জ বাজারে নিজ প্রতিষ্ঠানে এক নারী দর্জির ধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় অভিযোগ করেন। থানার ওসি নানা অজুহাতে বিলম্ব করে ৫ মাস পর ভুয়া তারিখ বসিয়ে (৩ সেপ্টেম্বর) ধর্ষণ প্রচেষ্ঠার মামলা নেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী। এর এক মাসের মধ্যে ৩১ অক্টোবর ধর্ষণ চেষ্ঠার অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করায় ২৬ ডিসেম্বর ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদন করেন ভুক্তভোগী ওই নারী। আবেদনে তিনি ওসি ও মামলার আসামি খলাদাপনিয়ার আব্দুল বাছিত চৌধুরী বাচ্চুর বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সাক্ষ্য দেন মানিকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মো. রায়হানসহ ২ জন। রায়হান সাক্ষি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগ দাখিলের আগে ওই নারী ১২ ডিসেম্বর সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করেন।
৫ সেপ্টেম্বর ইলাবাদ গ্রামের প্রবাসী শাহীন আহমদের বাড়ির জায়গা দখল, ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও গাছ কর্তন করার ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠে। প্রবাসী শাহীন আহমদ অভিযোগ করেন দ্রুত বিচার আইনে মামলা না করে ওসি বিবাদীর পক্ষ নিয়ে পাল্টা মামলাও করান। পরবর্তীতে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। শাহীন আহমদ বলেন, একবার তদন্তে গিয়েছিলেন এক কর্মকর্তা। আর কোনো খবর পাইনি।
অভিযোগগুলোর মধ্যে আলোচিত ছিল ২২ ডিসেম্বর কালিগঞ্জ বাজারস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা কানন ব্রত পালের মিস্টির দোকান থেকে ৩০ বস্তা চিনি উদ্ধারের ঘটনা। ওই চিনিকে ভারতীয় দাবি করে জব্দ ও পরে তার ছেলেকে থানায় নিয়ে ঘুষগ্রহণের অভিযোগ করা হয় ওসির বিরুদ্ধে। পর ৬ জানুয়ারি পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দেন কানন ব্রতের ছেলে বিপ্লব কুমার পাল। এ নিয়ে তোলপাড়া শুরু হলে তাৎক্ষনিক সরেজমিনে তদন্ত করেন অতিরিক্তি পুলিশ সুপার আবু সুফিয়ান ও জাকির হোসেন। ইতোমধ্যে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা কানন ব্রত, আনোয়ার মাস্টারের স্ত্রী মনোয়ারা ও ধর্ষণের অভিযোগকারী ওই নারীর সাথে আপস করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। অভিযোগের তদন্ত শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যম সমঝোতার চেষ্ঠা চলছে বলে জানিয়েছেন তারা।
দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) আবু সুফিয়ান বলেন, একাধিক অভিযোগের তদন্ত চলছে। এখনও সাক্ষ্য নেওয়া বাকি। শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর জেলার কালিয়াকর উপজেলার বড়াব গ্রামের বাসিন্দা মোশারফ হোসেন ২০০৩ সালে পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন।
এর পর পরিদর্শক (ওসি) পদে পদোন্নতি পেয়ে ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানায়, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানা ও সিলেট জেলার প্রবাসী কল্যাণ সেল'র ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
