সিলেটে পুলিশের সোর্সরাই জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়!
সিলেটে পুলিশের সোর্সরাই জড়িয়ে পড়ছে মাদক বিক্রির সঙ্গে। মাদক বিক্রেতাদের ধরিয়ে দিতে গিয়ে তাদের সঙ্গে গোপন আতাঁতের মাধ্যমে নিজেই হয়ে উঠছে মাদক বিক্রেতা। আর এতে সহযোগিতা করছে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য।
জানা যায়, সিলেটের বেশিরভাগ এলাকায় মাদকে সয়লাব হলেও কোনভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না মাদক ব্যবসা। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার দেখানো ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হচ্ছে। তাতে বেশিরভাগ মাদক বিক্রেতা তথ্যের অভাবে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে মাদক বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না বলে ধারণা করছে প্রশাসন।
এদিকে পুলিশের স্থানীয় সোর্সরাই জড়িয়ে পড়ছে মাদক বিক্রির সঙ্গে। এমনই চিত্র পাওয়া গেছে শাহপরাণ থানার টিলাগড়, মেন্দিবাগ, মিরাপাড়া, টুলটিকর, বাইপাস, কোতোয়ালি থানার কাষ্টঘর, মেনিখলা, ছড়ারপাড়, এয়ারপোর্ট থানার বড়শলা, সালুটিকর, বাইশটিলা, জালালাবাদ থানার বাগবাড়ি, টুকেরবাজার, পাঠানটুলা, মদিনা মার্কেট এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টিলাগড় এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর ও তার ভাই আশিকুর রহমান আশি, মিরাপাড়ার মমিন মিয়া, হামিদ মিয়ার ছেলে রাজু, টুলটিকর এলাকার মজির উদ্দিন ও মাইনদ্দিন, কাষ্টঘর এলাকার রবি দাস, মেনিখলা এলাকার শফিকুর রহমান শফি, রুহুল আমীন, ছড়ারপাড়ের তারাজুদ্দিনের ছেলে বাচ্ছু মিয়া, জুয়ারী আলমাছ, মাদক সম্রাট আওলাদ, বাগবাড়ি এলাকার নিজামুদ্দিন, হিরন, ফিরুজ মিয়া, মদিনা মার্কেট এলাকার দুলাল মিয়া, পাঠানটুলা এলাকার লিখন মিয়া, বড়শলা এলাকার শরীফ, মস্তু মিয়া, বাইশটিলা এলাকার আনোয়ার হোসেন, বাবর মিয়াসহ বেশ কিছু সোর্স এখন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের কাছে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায় ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলসহ আমদানি নিষিদ্ধ বিয়ার ও মদ। তাদের অধীনে রয়েছে একাধিক চোরাই মদের কারখানাও।
সূত্র জানায়, তারা শুরু থেকেই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকায় একাধিকবার পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হন। সেখান থেকেই পুলিশের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে হয়ে ওঠেন পুলিশের সোর্স। তবে আইনের ফাঁকে বেরিয়ে এসেই শুরু করেন তাদের পুরোনো পেশা। তবে সঙ্গে যোগ করেন পুলিশের সোর্স হিসেবে বাড়তি ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাবলে নিরীহদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে, জমি বিক্রেতার টাকা খোয়ানোর কৌশলে ও স্থানীয় মাদক সেবীকেও মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়াসহ নানা অপকর্ম চালায় তারা। তাদের রয়েছে একাধিক জুয়ার মাঠও।
অন্যদিকে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা, সপ্তাহ ইত্যাদি আদায় করে নিজের ভাগেরটা রেখে অসাধু পুলিশ সদস্যকে তা প্রদান করেন। আর এভাবেই নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয় মাদক ব্যবসা।
এসব বিষয়ে সিলেটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'সিলেটকে মাদক মুক্ত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। সিলেটে মাদক ব্যবসার সাথে শুধু পুলিশের সোর্সই নয়, সরকারী দলের কেউ থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্সে আছি৷'
তিনি আরো বলেন, 'পুলিশের সকল সদস্যদের সোর্সদের দেয়া তথ্যের যাচাই বাছাই ও তারা মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়লে তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব কাজে পুলিশ জড়িত থাকলে তদন্ত করে সেই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।'
