সংকটকালে আশা জাগালো বিয়ানীবাজারের পরিত্যক্ত গ্যাস কূপ
দৈনিক কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা
বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রের পরিত্যক্ত ১ নম্বর কূপ খনন করে গ্যাসের মজুদ পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। বৃহস্পতিবার বাপেক্স এই কূপে গ্যাসের মজুদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। বাপেক্স কর্মকর্তারা বলছেন, শিগগিরই এই কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হবে। প্রতিদিন এই কূপ থেকে ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার আশা করছেন তারা। এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর বিয়ানীবাজারের এই কূপে খনন শুরু হয়।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) সূত্রে জানা যায়, তাদের অধীনে বিয়ানীবাজার গ্যাসক্ষেত্রে দুটি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর কূপ থেকে ১৯৯৯ সালে উত্তোলন শুরু হয়; কিন্তু ২০১৪ সালে হঠাৎ কূপটি থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালের শুরুতে আবার এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু হলেও বছরের শেষ দিকে আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল কূপটি। চলতি বছরের ১০ সেপ্টম্বর আবার কূপটি খননের উদ্যোগ নেয় বাপেক্স। এবার আরও গ্যাসের মজুদ থাকার খবর মিলেছে। বাপেক্স সংশ্লিষ্টরা জানান, খননকাজ শুরুর সময় ধারণা করা হয়েছিল এ কূপ থেকে প্রতিদিন
৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে। তবে খনন শেষে মজুদ দেখে আশা করা হচ্ছে, এ কূপ থেকে প্রতিদিন এক কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। এসজিএফএলের এমডি প্রকৌশলী শাহিনুর ইসলাম বলেন, আরও কিছু কার্যক্রম শেষে শিগগিরই আমরা এ কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করতে পারব। খনন শুরুর আগে ডিপিপিতে ধরা হয়েছিল, এখানে প্রতিদিন ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস মিলতে পারে। তবে এখন মনে হচ্ছে- আরও বেশি পাওয়া যাবে।
প্রকৌশলী শাহিন জানান, এসজিএফএলের অধীন বিয়ানীবাজারের কূপ ছাড়াও গোলাপগঞ্জের কৈলাশটিলা-৮ ও গোয়াইনঘাট-১০ নম্বর কূপ খনন এবং রশিদপুরে ১টি পাইপলাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ চলছে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষে গ্যাস উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া দুটি প্রকল্পের আওতায় বিয়ানীবাজার ফিল্ড এবং ব্লক-১৩ ও ১৪-এর আওতায় ডুপিটিলা, বাতচিয়া, হারারগঞ্জ, জকিগঞ্জ ও সিলেট সাউথে ত্রিমাত্রিক সিসমিক জরিপ কাজ সম্পন্নের পথে রয়েছে।
এসজিএফএলের অধীনে আরও কূপ খননের কাজ চলছে জানিয়ে এই প্রকৌশলী বলেন, আশা করা হচ্ছে- ২০২৩ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ২০২৫ সালের মধ্যে এসজিএফএল থেকে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট বৃদ্ধি পাওয়ার আশা রয়েছে।
