বন্যার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে অবিরাম ছুটে চলা
সিটিজেন সলিডারিটি মুভমেন্ট ও স্টুডেন্ট ইউনিটি
বাংলাদেশ সিটিজেন সলিডারিটি মুভমেন্ট ও স্টুডেন্ট ইউনিটি নামে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অন্ধকারে সন্ধানী আলোর মতো দ্যুতি ছড়াচ্ছে। মানব কল্যাণের ব্রত নিয়ে গঠিত অরাজনৈতিক এই দুটি সংগঠন তাদের কর্ম দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিঃস্বার্থ সেবা প্রদানের মাধ্যমে দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যেখানেই মানবতা বিপন্ন হয়েছে সেখানেই ছুটে গেছে এ দুটি সংগঠন।
বন্যা, ঘটনা ও দুর্ঘটনা, দুর্যোগ-দুর্বিপাক তথা মানুষের দুঃসময়ে পাশে থেকে তাদের সাহস আর শক্তি যোগাতে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত মে মাসে পরপর দুটি ভয়াবহ বন্যার ছোবল সিলেটের মানুষের জীবন যাত্রাকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। বন্যার একটি আঘাত মুছতে না মুছতে ভয়ঙ্কর আরেক আঘাত সিলেটের মানুষকে বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণ। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, কালভার্ট, গবাদিপশু, হাঁস মোরগ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মামলামালসহ নানা কিছু।
কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ। মানুষের এই চরম দুঃময়ে আশার প্রদীপ নিয়ে সিলেটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলেছেন সংগঠনের সাহসী কর্মঠ ও বিবেকবান সদস্যরা। ত্রাণের বোঝা কাঁধে নিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছে অনাথ মানুষদের ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন। নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে পল্লী প্রান্তরের নিভৃত অঞ্চলে মানুষের ঘরে ঘরে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিচ্ছেন। কখনওবা গাড়িতে কখনওবা নৌকা, স্টিমারে আবার কখনও পদব্রজে ঝুঁকি নিয়ে দুর্গত অসহায় মানুষের হাতে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। বাংলাদেশ সিটিজেন সলিডারিটি মুভমেন্ট ও স্টুডেন্ট ইউনিটি নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ, মালামাল ক্রয় ও কঠোর পরিশ্রম করে ত্রাণ সামগ্রী প্যাকেটজাত করে আবার নিজেরাই এসব ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে ছুটে চলেন কষ্টমাখা বিপদগ্রস্থ মানুষের মুখে একটুখানি হাসি ফোটাতে। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যারা ত্রাণ দিয়ে তাদের এই উদ্যোগকে সমৃদ্ধ করছেন তাদের প্রতি।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন আবহাওয়ার কোন শুভ সংবাদ নেই। এখনো রয়ে গেছে ভরা বর্ষা সৌসুম। জকিগঞ্জের বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে চলছে হাহাকার। গোলাপগঞ্জের রানাপিংসহ অন্যান্য এলাকার বন্যা কবলিত মানুষের জন্য কেউ ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছেন না। একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জ। এই অঞ্চলের বিবেকবানদের অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানো জরুরি।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সিলেটের বানভাসি মানুষদের প্রতি গভীর মমতা দেখিয়েছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও বন্যার্তদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে সিলেটের মানুষের মন বড় হলেও এখন পর্যন্ত বন্যা কবলিত মানুষের জন্য তাদের ভূমিকা কমই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুর্গম এলাকার যেখানে চরম সঙ্কট সেখানে অনেকে যাননা সেখানে ত্রাণ নিয়ে যেতে যদি আমাদের সে দায়িত্ব দেওয়া হয় তা আমরা সুচারুভাবে পালন করতে পারবো ইনশাল্লাহ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, সময় ফুরিয়ে যায়নি। যেসব অঞ্চলে বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে সিলেট জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জাফলং, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, রানাপিং প্রভৃতি এলাকার মানুষদের সাহায্যে আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। বড় গরু কোরবানি না দিয়ে ছোট গরু কোরবানি দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে বন্যার্তদের সহায়তা করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিকুলতাকে পদদলিত করে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ ৫শ প্যাকেট খাবার নিয়ে দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াবে সংগঠন দুটির কর্মীরা। নেতৃবৃন্দ প্রবাসী ভাইবোনসহ সিলেটের সকল বিত্তবান ও বাংলাদেশের যেকোন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সিলেটের বন্যার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য উদাত্ত আহবান জানান। যেকোন সহযোগিতা সাদরে গ্রহন করে সুষ্ঠভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের ঘরে পৌঁছে দেবে এই সংগঠন দুটি। আর যারা সাহায্যের হাত বাড়াবেন তাদের সহানুভূতির কথা জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থের জন্য সাহায্য পাঠানো যাবে ০১৩০৯১৫৯৭৭৬ (পারসোনাল) বিকাশ নাম্বারে।
