ঈদের ৭দিন আগ থেকে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ
ব্যস্ততা বেড়েছে দর্জিপাড়ায়
ঈদে রেডিমেইড পোশাকের পাশাপাশি নিজের পছন্দ মতো বানানো পোশাকেরও চাহিদা অনেক। ফ্যাশনপ্রিয় তরুণ-তরুণীরা দর্জি দিয়ে বানানো পোশাকে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। এ কারণে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততা বেড়ে যায় দর্জিপাড়ায়। বাড়তি চাহিদা বাড়ায় নগরীর নামী দামী টেইলার্সের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার দর্জি দোকানেরও ব্যস্ততা বেড়ে যায়।
নগরীর কয়েকটি কাপড়ের ঘুরে দেখা যায, যেসব দোকানীরা কাপড় বিক্রির পাশাপাশি টেইলারিং সুবিধা দিচ্ছেন, সেখানে ক্রেতা সমাগম খুব বেশি। এছাড়াও ব্র্যান্ড কাপড় ও টেইলার্সের দোকানে ক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষনীয়।
নগরীর জিন্দাবাজার হক সুপার মার্কেটের ৪র্থ তলায় কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। কারিগররা দিন-রাত অবিরত কাজ করছেন। ক্রেতাদের চাহিদা মেঠাতে রাত দিন এক করেই তারা কাজ করছেন। নরমাল ডে’তে যেখানে ২/৩টি কাপড় সেলাই করেন, সেখানে ঈদ উপলক্ষে ৫-৬টি কাপড় সেলাই করছেন কারিগররা। সেলাইয়ের মানের দিকে খেয়াল রেখেও তারা কাজ করছেন।
জিন্দাবাজার জগন্নাথ জিউর আখড়া মার্কেটে রেইনবো টেইলার্সের মাষ্টার মাতাব উদ্দিন শ্যামল সিলেটকে বলেন, সোমবার থেকে তারা নতুন করে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে অতিরিক্ত অর্ডার নেওয়া হয়েছে। আশা করছি চাঁদরাতের আগে সবার জামা, প্যান্ট ডেলিভারী দিতে পারবো।
টেইলার্স দোকানের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনা মহামারীর কারণে গত দুই বছর তারা ব্যবসা করতে পারেননি। তবে এবার অনেকটা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে সবকিছু। ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে রাত দিন কাজ করছেন। ক্রেতাদের পছন্দ মতো কাপড় তৈরী করে সময়ের আগেই ডেলিভারী দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
সেলাই কারিগর আসাদ আহমদ বলেন, দিন-রাত সেলাই মেশিনের শব্দে ঈদে আগমণী বার্তা বইছে কারিগরদের মাঝে। গত দুই বছর কাজ না থাকায় পরিবার নিয়ে শান্তিতে ঈদ করতে পারিনি। এবার ঈদে ব্যবসা জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে। প্রতিদিন ৫-৬ টি কাপড় সেলাই করতে পারছি। প্রতিদিনই গড়ে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা ইনকাম করছি। এবারের ঈদটা ভালোভাবে কাটাতে পারবো আশা করছি।
সরেজমিনে বিভিন্ন টেইলার্সের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব টেইলার্সেই নতুন জামা কাপড় তৈরি করতে ভিড় জমাচ্ছেন নারী, পুরুষ, শিশুসহ নানা বয়সের গ্রাহকরা। উৎসব আসলেই দর্জির দোকানগুলোতে যেমন নারী-পুরুষের পদচারণা বাড়তে থাকে দীর্ঘ করোনা প্রার্দুভাব কাটিয়ে এবার আবারও বিপণী বিতানগুলোতেও তরুন-তরুণী ও বিভিন্ন বয়সের নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তৈরিকৃত পোশাক অনেক সময় শরীরের সাথে পুরোপুরি মানানসই হয় না, ফলে অনেকে পিস কাপড়ে দর্জির সেলাই করা পোশাকের প্রতি আগ্রহ থাকে বেশি।
ক্রেতারা জানান, ছেলেমেয়েদের চাহিদা অনুযায়ী ভাল কাপড় কিনে পছন্দের পোশাক তৈরির জন্য দর্জির দোকানে এসেছেন। কেউ পছন্দ করেন তৈরিকৃত পোশাক, আবার নিজ পছন্দের ডিজাইনে তৈরি করা পোশাকে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এক্ষেত্রে তরুণ-তরুণী আর বিভিন্ন বয়সের নারীর সংখ্যাই বেশী।
সিলেট নগরীর মধুবন সুপার মার্কেট, আলহামরা শপিং সিটি, করিমউল্লাহ মার্কেট, ওয়েস্টওয়ার্ল্ড শপিং সিটি, বøুওয়াটার শপিং সিটিসহ সবকটা মার্কেটের সব ছোট বড় দর্জি দোকানগুলোতে কাপড় সেলাইয়ের ধুম পড়েছে।
ক্রেতারা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার মজুরি ১’শ থেকে ২’শ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সব কিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় সেলাই মজুরীর দামও বেড়েছে। এছাড়া সুতাসহ অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালসের (উপাদান) দামও বেড়েছে। এ কারণে মেকিং খরচও বেড়েছে।
