প্রতিকূলতা শেষে আলোয় ঝলমল সিলেটের ঈদ বাজার
গভীর রাত অবধি সরব ক্রেতা-বিক্রেতারা
গেল দুই বছর করোনার কারণে ঈদ উৎসবে ব্যবসা হয়নি। লকডাউন বিধিনিষেধ প্রভৃতির মাঝেই কেটে গেছে দুই বছর। সে সময়ে ঈদের পূর্বে সরকার শপিং মল, মার্কেটগুলো খুলে দিলেও তেমন ছিলনা ক্রেতা সমাগম।
গেল দুই বছর ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশিত ব্যবসা হয়নি। সাধারণ মানুষের মাঝে করোনার ভয়, কর্মহীনতা, দোকানপাট বন্ধ সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় সময় পার করেছেন দেশের মানুষ। এ কারণে- ভর্তুকি দিয়ে টিকে থাকতে হয়েছিল ব্যবসায়ীদের। অনেকে ব্যবসা করতে না পারায় দেউলিয়া হয়ে গিয়েছিলেন। ব্যাংক লোন, কিস্তির টাকা ও অন্যান্য দেনা পরিশোধ করতে দিয়ে জমিজমাও বিক্রি করতে হয়েছে অনেককে। শহর থেকে গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও তারা ফিরে এসেছেন শহরে। শুরু করেছেন ব্যবসা।
গত দুই বছরের মতো এবার করোনার কোন ভয় নেই। সরকারের যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সকল স্তুরের মানুষকে টিকার আওতায় আনার ফলে সবকিছু সেই আগের মতো স্বাভাবিক হয়েছে। যার ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নগরীর মার্কেটগুলো।
নগরীর মার্কেটগুলোতে দেখা যায়- ঈদ উপলক্ষে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে প্রতিটি মার্কেট আর শপিংমল আলোকসজ্জার পাশাপাশি বর্ণিল সাজে সাজিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এবার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। যানজট নিরসনে কাজ করছে ট্রাফিক পুলিশ ও মার্কেটের নিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, গেল দুই বছর করোনার বিধিনিষেধ থাকায় ব্যবসা হয়নি। এতে আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, ভর্তুকি দিয়ে দোকান রাখতে হয়েছে। এ বছর করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় ব্যবসা হচ্ছে। ক্রেতারাও মার্কেটে আসতে শুরু করেছেন। করোনার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
.jpg)
নগরীর জিন্দাবাজারের মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, দিনের বেলায় ক্রেতারা কম আসছেন। ইফতার ও তারাবীর পর ক্রেতারা মার্কেটে আসেন। রাতে জমে উঠে ঈদ মার্কেট। ফুটপাত থেকে শুরু করে মার্কেট, শপিংমল, বিপনীবিতান সবখানেই ক্রেতাদের ভীড় সামলাচ্ছেন দোকানীরা।
নগরীর জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, লামাবাজার, নয়াসড়ক, কুমারপাড়া, বারুতখানা, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা দেখা গেছে ক্রেতাদের ভিড়।
এসব মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানান, দিনের বেলা রোজা রেখে কেউ মার্কেটে আসতে চান না। তবুও স্বাভাবিক থাকে বিকিকিনি। তবে সন্ধ্যার পর কাষ্টমার বাড়তে থাকে। রাত যত গভীর হয়, ক্রেতাদের সমাগম ততোই বাড়তে থাকে।
তবে- ক্রেতাদের অভিযোগ এবার কাপড়-চোপড়ের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন দোকানীরা। সীমিত বাজেট নিয়ে আসা অনেকেই তাদের রুচিমতো কেনাকাটা করতে পারছেন না।
জিন্দাবাজার শ্যামলী মার্কেটে ঈদ শপিং করতে আসা কনিজা জেরিন বলেন, এবার জিনিসপত্রের দাম বেশী রাখছেন দোকানীরা। নরমাল ডে’তে যে জুতা ২৫০-৩০০ টাকা পাওয়া যেতো, সে জুতা এখন ৫০০-৬০০ টাকা দিয়েও কেনা যাচ্ছে না। থ্রিপিছ, ওড়না, নতুন কাপড়চোপড়ে অতিরিক্ত দাম লিখে রাখছেন ব্যবসায়ীরা।
.jpg)
এমন অভিযোগ করেছেন তার সাথে শপিংয়ে আসা ফুফুতো বোন মারজানা বেগমও। তিনি জানান, গেল বছরের তুলনায় এবার দোকানীরা জিনিসপত্রের দাম ২-৩ গুন বাড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন- সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে কাপড় চোপড়ের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের পরিস্থিতি কারনে বেশী দামে কাপড় কিনতে হয়েছে, তাই একটু দাম বাড়ছে।
মধুবন মার্কেটের ব্যবসায়ী আনিস রহমান বলেন, ব্যবসা ভালো হচ্ছে। যত ঈদ গনিয়ে আসছে, ততোই ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে। দোকানে নতুন কিছু কালেকশন আনা হয়েছে। কয়েকদিন ধরে বিক্রি ভালো হচ্ছে।
হকার মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ বলেন, গত এক বছরে দোকানে অনেক মাল জমা হয়েছে। কিন্তু খুচরা বিক্রেতারা না নেওয়ায় মাল আটকা পড়েছিল। এখন তা বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন ধরে ব্যবসা জমতে শুরু করেছে।
জিন্দাবাজারে ঈদের নতুন পোশাক কিনতে আসা আবিদ সুমন বলেন, করোনার ঝুঁকির কারণে গত দুই বছর ঈদ শপিং করতে পারেনি। এবার স্বস্থিতে শপিং করছি।
