সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধই শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি: জেলা প্রশাসক
সিলেটে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেছেন, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি। বাংলাদেশ আবহমানকাল থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের প্রতিটি ধর্মের মানুষ স্বাধীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন। এই সম্প্রীতির বন্ধনকে ধরে রাখতে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহনশীলতার চর্চা করতে হবে।
রোববার বিকেলে নগরীর আখালিয়া নয়াবাজারস্থ ব্রাহ্মণশাসনে সিলেট বৌদ্ধ সমিতির উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা ও ফানুস উত্তোলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “সম্প্রতি সিলেটসহ সারা দেশে দুর্গাপূজা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ সব ধর্মের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত, আর এ ক্ষেত্রে সিলেট সবসময়ই এগিয়ে রয়েছে।” তিনি বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধ মানুষকে সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে পরিচালিত করে। একটি মানবিক ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রার্থনা, মোমবাতি প্রজ্বলন ও ফানুস উত্তোলনসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে উৎসবের।
সিলেট বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপঙ্কর ভিক্ষুর সভাপতিত্বে ও চন্দ্রিকা বড়ুয়া মন্টির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির আহ্বায়ক সুকান্তি বড়ুয়া এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সদস্যসচিব সুজন বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট বৌদ্ধ সমিতির সাবেক সভাপতি চন্দ্র শেখর বড়ুয়া, আখালিয়া নয়াবাজার কমিটির সভাপতি দেলওয়ার হোসেন জয়, মুসলিম নগর মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল করিম, বৌদ্ধ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল বড়ুয়া ও তপন কান্তি বড়ুয়া। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এডহক কমিটির সদস্য পলাশ বড়ুয়া।
এর আগে সকালে এডহক কমিটির সদস্য প্রধান ইমন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্রথম অধিবেশনের বিভিন্ন পর্বে উপস্থিত ছিলেন লিটন বড়ুয়া, সেবু বড়ুয়া ও রায়ধন বড়ুয়াসহ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

