জমি বিরোধে কমলগঞ্জে ট্যুরিস্ট গাইডকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জমিজমা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে বিরোধের জেরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ট্যুরিস্ট গাইড রামানন্দ মল্লিকের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীও হামলার শিকার হন।
বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় রামানন্দ মল্লিক কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের শ্রীনাথপুর গ্রামে রামানন্দের নিজ বাড়ির উঠানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী লাভলী মল্লিক বাদী হয়ে প্রতিবেশী প্রেমা মালাকার, বিকাশ মালাকার ও উপেন্দ্র মালাকারসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে কমলগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা ও বাড়ির চলাচলের পথ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে রামানন্দের পরিবারের পূর্ববিরোধ চলছিল। শনিবার রাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো দা, লোহার রড ও বাঁশের লাঠিসোঁটা নিয়ে রামানন্দের বসতবাড়ির উঠানে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামানন্দকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত করে।
এ সময় তাঁর আত্মচিৎকার শুনে বৃদ্ধা মা জোসনা মালাকার ও স্ত্রী লাভলী মল্লিক এগিয়ে এলে তাঁদেরও বেধড়ক মারধর ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়। স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী লাভলী মল্লিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২৩ সালেও আমার শাশুড়ির ওপর এই চক্রটি হামলা চালিয়েছিল। তখন স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে আমরা কোনো সুষ্ঠু বিচার বা প্রতিকার পাইনি। পুরোনো ঘটনার বিচার না হওয়ায় তারা আবারও আমাদের ওপর রক্তক্ষয়ী হামলা চালানোর সাহস পেল।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন জানান, ট্যুরিস্ট গাইডের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান অভিযুক্ত প্রেমা মালাকারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
