নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়াল
হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপাল। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে প্রাণহানি ও নিখোঁজের সংখ্যা। ইতোমধ্যেই মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ২০০ জন ছাড়িয়েছে। এছাড়াও এখনো নিখোঁজ আছেন প্রায় সাড়ে ৪ হাজার মানুষ। দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী ও উদ্ধারকারী দল। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সর্বশেষ আপডেটে এ তথ্য জানিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ২০৪ জনে পৌঁছেছে। এছাড়াও এখনো যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন এমন মানুষের সংখ্যা চার হাজার ২১৬ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, এসব মরদেহের ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অপরদিকে ৯৫টি মরদেহ তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এছাড়াও আরও ৯১১টি মরদেহের বিস্তারিত পুলিশের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। যাদের পরিবারের সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন তারা সেখান থেকে তথ্য জেনে প্রিয়জনকে শনাক্ত করতে পারবেন।
এদিকে বন্যাকবলিত অঞ্চলে উদ্ধার অভিযানের জন্য ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। তারা উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে ত্রাণ বিতরণ এবং মরদেহ রক্ষণাবেক্ষণের কাজও করছে।
অপরদিকে বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া গাড়ি চলাচলের জন্য সড়ক মেরামতের কাজও চলছে। এতে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৬ আগস্ট নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভোতেকোশি নদী অববাহিকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা আঘাত হানে। হিমবাহ ও পাথর ধসের পর বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। এতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার ছয়দিন পার হয়ে যাওয়ায় যারা এখনো নিখোঁজ আছেন তাদের জীবন নিয়েও এখন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

