কুলাউড়ায় চাচার জমি দখলের পাঁয়তারায় আপন ভাতিজারা
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নে পৈতৃক ও খরিদাসূত্রে প্রাপ্ত ১ একরেরও বেশি জমি দখলের পাঁয়তারার অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা এই জমি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলার শিকার হয়েছেন চাচার পরিবারের সদস্যরা।
গত বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুলাউড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন উপজেলার আশ্রয়গ্রামের বাসিন্দা মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আব্দুল মতলিব। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ছেলে মো. হাবিবুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আশ্রয়গ্রাম মৌজার ১৪টি দাগে (খতিয়ান নং ৪৬, ৪৭, ৪০১, ৩৩৯, ৩০, ২৬০) ৬০৩৮ নম্বর দলিলমূলে ১ একরের অধিক ভূমির মালিক আব্দুল মতলিব। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি এই জমি চাষাবাদ ও ভোগদখল করে আসছেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে তার আপন বড় ভাই মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে সাইফুল ইসলাম, আল আমিন, বাবর আহমদ ও রুহুল আমিন এই জমিটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট ওই জমিতে পাকা আউশ ধান কাটার সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে মতলিবের ছেলে ও মেয়ে গুরুতর আহত হন। আহত মেয়ে আমেনা আক্তার বর্তমানে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ২৬ এপ্রিল জমিতে হালচাষ করতে গেলেও অভিযুক্তরা বাধা দিয়ে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় গত ২৮ এপ্রিল আমেনা আক্তার বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৫নং আমল আদালত, মৌলভীবাজার)-এ সিআর মামলা (নং ২৬৯/২৬) দায়ের করেন। এছাড়া জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ১৮ মে কুলাউড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (নং ১০৩৬) করেন আব্দুল মতলিবের স্ত্রী রজিবুন বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মতলিব বলেন, স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশি বৈঠক হয়েছে। আমি আমার বৈধ কাগজপত্র বিচারকদের সামনে দেখালেও অভিযুক্ত ভাতিজারা কোনো দলিল দেখাতে পারেনি। বিচারকরা তাদের জমিতে যেতে নিষেধ করলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না। এখন তারা আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাদের বাধার মুখে আমি আমার কষ্টের আউশ ধান ঘরে তুলতে পারছি না, মাঠে ধান নষ্ট হচ্ছে।
এ বিষয়ে টিলাগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বলেন, জমি দখলের পাঁয়তারার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে অভিযুক্তদের দাবি—বিদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে তারা আব্দুল মতলিবের কাছে ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পান। বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও মতলিবের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তারা জানিয়েছেন।
তবে পাওনা টাকার অজুহাতে জোরপূর্বক জমি দখল ও হামলার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
