স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকাতে সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। তাঁর ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচি ছিল জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতা অর্জনের কর্মসূচি। ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচার, স্বৈরাচারী শক্তি বা ফ্যাসিবাদের উত্থান যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ) সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি এসময় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেন এবং পরবর্তীতে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে রক্ষা করেন। বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং উৎপাদনমুখী রাজনীতির সূচনা করেন। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় নেতৃত্বে পরিণত হন এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। নারী শিক্ষা ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএনপি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির আদর্শ হলো সাম্য, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর আলোকে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ সময় তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকবে কি না- এমন প্রশ্নের সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের হাল ধরে স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। কৃষি, শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রযাত্রার ভিত্তি তৈরি করে। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের অনুসারী হিসেবে তাঁর স্থাপিত উচ্চমান বজায় রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা দায়িত্ব। জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থনীতি, জ্বালানি ও আইনশৃঙ্খলাসহ দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সরকার কাজ করবে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম এ মালিক, এমপি, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক ও অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নিসহ সিলেট জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

