ওসমানীনগর বিএনপিতে দুই বলয়ে তিন ধারা
মুখে ঐক্যের বুলি থাকলেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপিতে চরম বিভক্তি ফুটে উঠেছে। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা দুই বলয়ে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন। একই দিনে পৃথক ব্যানারে তিনটি কর্মসূচি পালনের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিভাজনের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদী লুনার অনুসারী নেতাকর্মীরা তাজপুর কদমতলায় আলোচনা সভার আয়োজন করেন। সভা শেষে একটি বিশাল মিছিল কদমতলা থেকে তাজপুর বাজার প্রদক্ষিণ করে। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নুল হক চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক রায়হান আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক কয়েছ চৌধুরী, সহ-দপ্তর সম্পাদক হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী শফি, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফজল আহমদ জনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রকিব আলী, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুয়েব আহমদ এবং তাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুস শহিদ।
অন্যদিকে, একই সময়ে তাজপুর বাজারে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত একটি পক্ষ পৃথক ব্যানারে মিছিল বের করে। বিএনপি নেতা এনাম পীরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই মিছিলে হাবিবুর রহমান জয়নালসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।
এদিকে বিকেল ৪টায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরের ব্যানারেই উপজেলার গোয়ালাবাজারে আরেকটি পৃথক মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই অংশের নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া। মিছিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইমারান রব্বানী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গয়াছ মিয়া এবং সিলেট জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো বড় কর্মসূচিতে এক ও অভিন্ন ব্যানারে না এসে পৃথক তিনটি স্থানে শক্তি প্রদর্শন করায় দলের চেইন অফ কমান্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে এই বিভক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এই পৃথক কর্মসূচিকে সাংগঠনিক কার্যক্রমের বিস্তার হিসেবে দাবি করলেও সাধারণ মানুষের কাছে এটি স্পষ্ট বিভক্তি হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
