সিলেটে ওয়াকফ এস্টেটের ঘটনায় ৩ মামলায় আসামি ৫০
সিলেট মহানগরীর মোগলাবাজার থানার সিলাম এলাকার হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার-মসজিদ ও ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোটা নিয়ে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) সংঘর্ষে জড়িত দুইপক্ষ এবং পুলিশের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে দায়ের করা এসব মামলায় ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
জানা গেছে, সংঘর্ষের ঘটনায় একপক্ষের হয়ে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের যুগ্ম মোতাওয়াল্লী আবেদ রাজা বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় একটি মামলা করেন। এর পর অপরপক্ষের ফাহাদুল মান্নান বাদী হয়ে পাল্টা আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে সংঘর্ষের সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরও একটি মামলা করেছে। মোগলাবাজার থানার এসআই রুবেল আহমদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। ওই ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন। তিনি বলেন, মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলাম এলাকার চকের বাজারে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের মাজার ও মসজিদ এবং এর আওতাধীন ৩৫ থেকে ৪০টি দোকানকোটা পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে শুক্রবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টার দিকে দুইপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা ওই সংঘর্ষে সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে দুইপক্ষের হামলা-পাল্টাহামলায় ওসি মো. মনির হোসেনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশ, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুরব্বিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। সূত্র জানায়, হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেটের (ইসি নং–১২৭৩৫) পরিচালনা নিয়ে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ জুলাই ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেটের প্রশাসকের এক আদেশে নয় সদস্যের একটি কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ওই কমিটিতে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিককে সভাপতি, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সহসভাপতি এবং মো. ফজলু মিয়াকে মোতাওয়াল্লী করা হয়। এছাড়া আবেদ রাজা ও আহমদুর রহমান ছাদেককে যুগ্ম মোতাওয়াল্লী এবং মোয়াজ্জেম হোসেন লনি, লুতফুর রহমান বাবু, আব্দুল মতিন শাহিন ও আব্দুস সামাদকে সদস্য করা হয়।
ওয়াকফ প্রশাসকের ওই আদেশের পর শাহ আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন নম্বর ১০৭৬৭/২৬ দায়ের করেন। গত ১৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের বিজয়-৭১ ভবনের ৩ নম্বর আদালতে রিটটির শুনানি হয়।
বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মো. তাজরুল হোসাইনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে শুনানি শেষে বাংলাদেশ ওয়াকফ এস্টেট অনুমোদিত কমিটি বহাল রাখা হয়। তবে সাময়িক সময়ের জন্য ওই কমিটির মোতাওয়াল্লী ফজলু মিয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে হযরত শাহ তৈয়ব ছয়লানি (রহ.) মাজার ওয়াকফ এস্টেট ও মসজিদের দায়িত্ব পালনের জন্য আবেদ রাজাকে মোতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা ও দোকানকোটা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই সংঘর্ষ ও পরবর্তী সময়ে পৃথক তিনটি মামলা দায়েরের ঘটনা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

