জগন্নাথপুরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে হালেমা খাতুন (২২) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং যৌতুকের জন্য তাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের হাড়গ্রাম এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত হালেমা খাতুন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পিঠুয়া গ্রামের আছাব মিয়ার মেয়ে এবং হাড়গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী সোনু মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে সোনু মিয়ার সাথে হালেমার বিয়ে হয়। বিয়ের মাত্র এক সপ্তাহ পরই সোনু মিয়া কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া চলে যান। স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে হালেমার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ ও মনোমালিন্য চলছিল। শনিবার দুপুরে শ্বশুরবাড়ির নিজ কক্ষে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে জগন্নাথপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয় বরং হত্যাকাণ্ড। নিহতের চাচা ও আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ড সদস্য সালেহ আহমেদ বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন হালেমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। কয়েকদিন আগে তার বাবা তাকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাধা দেয়। আমরা মনে করি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ঘরের দরজা ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগানো ছিল। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে।
